বাংলাদেশী বিমানসেনা গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম (১৯৪১ –১৪ জুন ২০২০), ইসরাইলের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধ বিমান ভুপাতিত করার রেকর্ডটা অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যাঁর দখলে! তিনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জর্ডান ও ইরাকের বিমানবাহিনীতে বৈমানিকের দায়িত্ব পালন করেছেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল রেকর্ড। তাঁর জন্মই হয়েছিলো যেন রেকর্ড ভাঙার জন্য, রেকর্ড গড়ার জন্য।

১৯৬৭ সালে তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি মাত্র ছয় দিনে চারটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হন, যা এখন পর্যন্ত একটি রেকর্ড। ১৯৭১ সালের পূর্বে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বাঙালি হওয়ার অপরাধে পাকিস্তান বিমান বাহিনী তাঁকে Grounded করে রাখে।

পরবর্তীকালে তিনি নতুন গঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর Director of Flight Safety এবং পরবর্তীতে Director of Operation হিসেবে নিয়োগ পান। বিমানসেনার ইতিহাসে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আমেরিকান বিমানবাহিনী তাঁকে বিশ্বের ২২ জন লিভিং ঈগলের (জীবন্ত বাজপাখি) একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম ১৯৪১ সালে পাবনা জেলার খগড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নুরুল আমিনের কর্মসূত্রে তাঁর শৈশব কেটেছিল কলকাতায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসে। ১৫ বছর বয়সে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ১৯৫৬ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে গমন করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ভর্তি হন পাকিস্তান এয়ার ফোর্স ক্যাডেট কলেজে।

দুই বছর পর ১৯৬০ সালে তিনি পাইলট অফিসার হয়ে শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মকাল সূচনা করেন। তাঁর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ হয় মার্কিন সেনাদের প্রশিক্ষণ বিমান সেসনা টি-৩৭ বিমান দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার লুক এয়ার ফোর্স বেসে এফ-৮৬ সেব্রেসের উপর উচ্চ প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তিনি টপ গান হিসেবে ভূষিত হন।

১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাইফুল আজম করাচির মৌরিপুর এয়ার বেসে (বর্তমানে মাশরুর এয়ারবেস) টি-৩৩ বিমানের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবেশী চিরশত্রু ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাইফুল আজম পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রনের হয়ে যোগ দেন। বিমান থেকে রকেট ও গোলা বর্ষণ করে তিনি একাধিক ভারতীয় ট্যাংককে ধ্বংস ও অকার্যকর করেন।

চারটি ভারতীয় Gnat জঙ্গি বিমান সাইফুল আজমের ফাইটার গ্রুপের উপর আক্রমন করে। তৎকালীন ফ্লাইট লেফটেনান্ট সাইফুল আজম রুখে দাঁড়ান এবং বিমান যুদ্ধ বা ডগ ফাইটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ফ্লাইট অফিসার বিজয় মায়াদেবের বিমানকে ভূপাতিত করেন এবং বিজয় মায়াদেবকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক করেন। ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক সিতারা–ই–জুরাত (বাংলাদেশের বীরবিক্রম এর সমতুল্য) পদকে ভুষিত করা হয়।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ। ১৯৬৬ সালের নভেম্বর মাস। আরো একজন সহকর্মী বৈমানিকসহ পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রতিনিধি হিশেবে ডেপুটেশনে জর্ডান রাজকীয় বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন সাইফুল আজম। সেখানে তিনি জর্ডান বিমানবাহিনীতে উপদেষ্টা হিসেবে পাইলটদের প্রশিক্ষণের কাজ করেন। কিন্তু বিধি বাম। জর্ডানের বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করার এক বছরের মাথায় ৫ জুন ১৯৬৭ সালে তৃতীয় আরব-ইসরায়েল ছয়দিনের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তাঁরাও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর হামলা থেকে জর্ডানের মূল এয়ারবেস মাফরাকের প্রতিরক্ষার জন্য তাঁকে ডাকা হয়। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আক্রমণের আগমূহুর্তে হকার হান্টার বিমান নিয়ে জর্ডান বিমান বাহিনীর পক্ষে উড্ডয়ন করেন সাইফুল আজম। অসামান্য দক্ষতা এবং সাহসিকতার দৃষ্টান্ত রেখে তাঁর বিমানের চেয়ে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির দুইটি ইসরায়েলি মিরাজ ফাইটার বিমান ভূপাতিত করেন। সাইফুল আযম তার অসামান্য সাফল্যের জন্য জর্ডানিদের ব্যাপক প্রসংশা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন।

জর্ডানের বাদশাহ হুসাইন নিজের গাড়িতে লিফট দিয়ে সাইফুল আযমকে এয়ারবেস থেকে তাঁর মেসে পৌঁছিয়ে দেন। সাইফুল আযম ও তার স্কোয়াড্রন সাফল্য লাভ করলেও অন্যান্য জর্ডানি বিমানগুলি ব্যর্থ হয় এবং ইসরাইলি বোমা বর্ষণে বেশিরভাগ জর্ডানি বিমান ভুমিতেই ধ্বংস হয়ে যায় ও রানওয়েগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর অসাধারণ কৌশল ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে জর্ডান সরকার তাকে ‘ওয়াসমা ই ইস্তেকলাল’ বা স্বাধীনতা পদক প্রদান করে।

এদিকে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বোমা বর্ষণ করে মিশরীয় বিমানবাহিনীর প্রায় সব বিমান অচল করে দেয়। জর্ডান বিমানবাহিনীর হয়ে জর্ডানের ভূমি থেকে উড্ডয়ন সম্ভব না হওয়ায় দুইদিন পর তাকে জরুরি ভিত্তিতে ইরাকে বদলি করে পাঠানো হয়। তিনি ইরাকি বিমান বাহিনীর হয়ে ইসরায়েলি ফাইটারের মোকাবেলা করেন এবং ডগ ফাইটে একটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করেন।

বিমানঘাঁটি আক্রমণের সময় তিনি পশ্চিম ইরাকে ছিলেন। ইসারায়েলি ক্যাপ্টেন ড্রোর একের পর এক ইরাকি বিমান ধ্বংস করে চলেছে। তার সাথে সঙ্গী হিসাবে আছে আরেক ইসরায়েলি ক্যাপ্টেন গোলান। এই অবস্থায় আকাশে উড়াল দেন সাইফুল আজম। কিছুক্ষণের মাঝেই তার উইংম্যানকেও ফেলে দেয় ইসরায়েলি বিমান। ইসরায়েলি পাইলট ক্যাপ্টেন গিডিওন ড্রোর আরো দুজন ইরাকি বৈমানিককে গুলি করতে সক্ষম হয়। কিন্তু সাইফুল আজম একাই লড়ে যাচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে সাইফুল আজম ড্রোরকে গুলি করতে সক্ষম হন। তিনি ক্যাপ্টেন গোলানের বোমারু বিমানকেও ভূপাতিত করতে সক্ষম হন এবং ক্যাপ্টেন ড্রোর এবং গোলানকে যুদ্ধবন্দি হিশেবে গ্রেফতার করেন। এটি একটি রেকর্ড। দুই দিনের ব্যপ্তিতে তিনি দুইটি ভিন্ন দেশের হয়ে দু’টি ভিন্ন স্থানে আক্রমণ পরিচালনা করে ৪টি অত্যাধুনিক ইসরায়েলি বিমানকে ভূপাতিত করেন। এজন্য তাঁকে ইরাকি সাহসিকতা পদক ‘নুত আল সুজাত’ প্রদান করা হয়।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশী বৈমানিক সাইফুল আজমের এই কীর্তি আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ সংখ্যক বিমান ঘায়েল করার রেকর্ড।₹ সারিতে অবস্থান করছেন। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জর্ডান-ইরাক-পাকিস্তান তাকে বীরত্বসূচক পদকে ভূষিত করে। তিনটি দেশের সম্মানসূচক সামরিক পদক অর্জনের ঘটনা আন্তর্জাতিক সামরিক ইতিহাসে বিরল। একই সাথে তিনটি দেশের হয়ে যুদ্ধ করা এবং একই ব্যাক্তির দ্বারা একের অধিক শত্রু রাষ্ট্রের (ভারত এবং ইসরায়েল) বিমান ভূপাতিত করার বিরল রেকর্ডের&;ক।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম ছিলেন শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের প্রশিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার আগেই তিনি পাকিস্তান এয়ারলাইন্স ও বিমানবাহিনীতে কর্মরত তার সহকর্মী (বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানও এই পরিকল্পনায় ছিলেন) বাঙালিদের সাথে গোপনে পরিকল্পনা করেছিলেন করাচি থেকে পাকিস্তান এয়ারফোর্সের একটি জেটবিমান ছিনতাই করার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চের ৬ তারিখেই তিনি তার স্ত্রী নিশাত আজমকে সন্তানসহ পূর্ব-পাকিস্তানে (বাংলাদেশে) পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সে পরিকল্পনা আর সফল হতে পারেনি। তিনি যে কোন ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের চেষ্টা করলেও ১৯৭১ সালের মার্চের শুরুতেই তাঁর ওপর পাকিস্তান বিমানবাহিনী সাময়িকভাবে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাকে Grounded এবং নজরবন্দি করে রাখে।

নির্ভুল অতীত রেকর্ডের কারণে পাকিস্তান বিমানবাহিনী তাঁকে নিয়ে কোন প্রকার ঝুঁকি নেয়নি। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান টি-৩৩ ফাইটার বিমান নিয়ে পালিয়ে যাবার প্রাক্কালে শহিদ হবার পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সাইফুল আজমকে গ্রেফতার করে টানা ২১ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। মতিউরের মৃত্যুর পরপরই সাইফুল আজমকে তাঁর পাকিস্তানী ব্যাচম্যান সেসিল চৌধুরী বন্দি করে নিয়ে যায় এবং ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অজ্ঞাত স্থানে বন্দি করে রাখে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি সদ্য গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি উইং কমান্ডার পদে পদোন্নতি পান এবং ঢাকা বিমানবাহিনী ঘাঁটির বেস কমান্ডার পদে নিযুক্ত হন। ১৯৮০ সালে সাইফুল আজম বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর গ্রহণ করার পর তিনি পরপর দুই বার পাবনা-৩ (চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুরা উপজেলা) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দুই টার্মে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি Film Development Corporation (FDC) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিশেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

একনজরে সাইফুল আজমের কীর্তিসমূহ:


১। ১৯৬১ সালের এপ্রিলে মার্কিন বিমানবাহিনী কর্তৃক টপ গান উপাধি।
২। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক সিতারা–ই–জুরাত পুরস্কারে ভূষিত।
৩। একক ব্যক্তি হিসেবে আকাশযুদ্ধের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করার বিরল বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ জর্দান সরকার কর্তৃক হুসাম-ই-ইস্তিকলাল সম্মাননায় ভূষিতকরণ।
৪। স্বয়ং জর্ডানের বাদশাহ হুসাইন নিজের গাড়িতে এয়ারবেস থেকে লিফট দিয়ে সাইফুল আযমকে তাঁর মেসে পৌঁছিয়ে দিয়ে পুলক অনুভব করেন।
৫। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ইরাক সরকারের সাহসিকতা পদক নুত-আল-শুজাত অর্জন।
৬। আকাশযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০১ সালে মার্কিন বিমানবাহিনী কর্তৃক বিশ্বের ২২ জন লিভিং ঈগলসের একজন হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।0
৭। আটটি দেশের আটটি পৃথক বিমান বাহিনী কর্তৃক ফাইটার পরিচালনার প্রশংসাপত্র অর্জন। দেশগুলো হলো- পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জর্ডান, ইরাক, রাশিয়া, চীন এবং বাংলাদেশ।
৮। পৃথক চারটি দেশের বিমানবাহিনীর হয়ে ফাইটার পরিচালনার বিরল সম্মান অর্জন।
৯। একের অধিক দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক ফাইটার বিমান ভূপাতিত করার বিরল রেকর্ড।
১০। সর্বোচ্চ সংখ্যক ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করার বিরল রেকর্ড।

পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য এই বিমানসেনা ১৪ জুন ২০২০ তারিখ দুপুর ১টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)এ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুও সাইফুল আজমের এক বিষ্ময়কর রেকর্ড। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের বড় ধরণের ক্ষতি করেছে এমন লোক স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন না। আন্তর্জাতিক নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলের হিংস্র ও ধূর্ত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাঁদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে গুপ্তহত্যার শিকারে পরিণত করে।

ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র, এমনকী যে সব দেশ ইসরায়েলিদের জন্য নিরাপদ নয় সেসব দেশে গিয়েও টার্গেটেড ব্যক্তিদের খুন নিশ্চিত করে মোসাদ। কিন্তু ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকারক অকুতোভয় বাংলাদেশী বিমানসেনা সাইফুল আজমের ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। তিনি জীবন সায়াহ্নে স্বাভাবিক মৃত্যুর মাধ্যমে আরো একটি বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করে গেছেন।


সাইফুল আজমের মৃত্যুর পর খ্যাতনামা ফিলিস্তিনী সাংবাদিক তামির আল মিশাল তাকে ‘আকাশের ঈগল’ বলে অভিহিত করেন। ফিলিস্তিনী ইতিহাসবিদ ওসামা আল আসকার শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন মহান বৈমানিক। জেরুজালেমের পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ভ্রাতৃদ্বয় আমাদের অংশীদার ছিলো’। ফিলিস্তিনী অধ্যাপক নাজি শৌকরি তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টুইটারবার্তায় বলেন, ‘সাইফুল আজম ফিলিস্তিনকে ভালোবাসতেন এবং জেরুজালেমের স্বার্থে লড়াই করেছিলেন।

পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক যদু-মধু পাঠ্যপুস্তকে থাকলেও সাইফুল আজম বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে নাই। যাদের পাঠ করলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবার কথা, দেশ সমৃদ্ধ হবার কথা তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচিত না করানোর দায় রাষ্ট্র কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। এমন কীর্তিমান বীর পাঠ্যপুস্তকে না থাকার কারণ কী?

মুহাম্মদ ইয়াকুব

কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.