মুসা আকন্দ, নাটোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এম.পি বলেন, বিগত ১১ বছর ধরে আমাদের দেশ গড়ে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির সফলতার কারনেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ শনিবার (১৪ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সহযোগে নাটোরের উত্তরা গণভবন ও রাণী ভবানী রাজবাড়ি পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউজে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। উপরোল্লেখিত মতবিনিময় সভা প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ এবং উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, অতিরিক্ত সচিব মোঃ শামসুল হক, মোঃ সাব্বির আহমদ চৌধুরী এবং সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এফ এম বোরহান উদ্দিন, মোঃ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোঃ তালহা, তারিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ ও মেহেদী হাসান প্রমুখ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত -সকলের সাথে বন্ধুত্ব-এই পররাষ্ট্র নীতিতে পথ চলছে বাংলাদেশ। সকলের সাথে বৈরীতা পরিহার করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করছি আমরা। আমাদের লক্ষ্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে অর্থনৈতিক কুটনৈতিক সুফল অর্জন করা। করোনাকালীন স্থবির সময়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে করোনা প্রতিরোধক ও চিকিৎসার মেডিকেল সরঞ্জামাদি রপ্তানীর সুযোগ আমাদের হয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ লাখ পিপি পাঠানো হয়েছে।

ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, অর্থনৈতিক কুটনৈতিক সুফল পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরুপ, দেশের মানব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ‍্যে দক্ষ জনগোষ্ঠির জন্যে বিভিন্ন দেশে কর্মস্থানের সুযোগ করে দেওয়া, দেশের অপার সম্ভাবনাময় মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদসমূহের সহজলভ্যতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে সম্মান দেওয়ার লক্ষ‍্যে বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোতে পাসপোর্ট ডেলিভারীসহ প্রযুক্তি নির্ভর সেবা ব‍্যবস্থা দ্রুত ও সহজ করার চেষ্টা। মুজিববর্ষ-২০২০ এবং স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি-২০২১ কে কেন্দ্র করে বিশ্বের কাছে অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে তুলে ধরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের কারনে দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সর্বাধিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচনেও আমরা অগ্রগামী। ইতোমধ্যে গত ১১ বছরে দেশের দারিদ্রসীমা অর্ধেক হ্রাস পেয়ে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী পাঁচ বছরে আরো পাঁচ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ উন্নয়নের পথপরিক্রমায় ২০৪১ সালে বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্খিত সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত হবে বলেও আশাবাদী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.