সৈয়দা ইয়াসমীন, সম্পাদনা ডেস্ক:
আজ ১৪ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের কালো অধ‍্যায়, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস!

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তৎকালীন রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। আবার অনেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করেও হত‍্যা করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বছরব্যাপী পাকিস্তান সেনাবাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। তবে পরিকল্পিতভাবে সবচেয়ে বেশীসংখ্যক বুদ্ধিজীবী হত্যা করা হয়েছিল ১৪ ডিসেম্বরে।

আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘’নিউজ উইক’’-এর সাংবাদিক নিকোলাস টমালিন এর দেয়া তথ‍্য এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে প্রকাশিত সংকলনের তথ‍্য অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ৭০ জন বুদ্ধিজীবী এই নির্মমতার স্বীকার হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গণকবরে তাদের মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। স্বাধীনতার পর নিকট আত্মীয়দের দ্বারা মিরপুর এবং রাজারবাগ বধ্যভূমিতে তাদের মৃতদেহ সনাক্ত করা হয়।

চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ‍্যে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়। বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটির প্রধান জহির রায়হান এর ভাষ‍্যমতে, ‘এরা নির্ভুলভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনষ্ক বুদ্ধিজীবীদেরকে বাছাই করে আঘাত হেনেছে’।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এই দিনটিকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

আর্লি-স্টার পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শহীদ বুদ্ধিজীবিদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা এবং সেই সকল বর্বরদের জানাই ঘৃণা!

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.