পর্ব-৭

আকিয়াব সেনা গ্যারিসন। ভিআইপি কলফারেন্স হলে জরুরী মিটিং। কনফারেন্সের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল অংঈ উইনের আসন ছাড়া সব আসন পূর্ণ হয়ে গেছে। আকিয়াব ডিভিশনের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ সবাই জেনারেলের দিক নির্দেশনা নোট করার জন্য নোটবুক নিয়ে প্রস্তুত। 

কনফারেন্স হলের বাইরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে মিলিটারি পুলিশের স্কট সহকারে এসে পৌঁছালো জেনারেল অংঈ উইনের গাড়ি। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৬৯ পদাতিক ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর উথ্যাই কড়া স্যালুট ঠুকে গাড়ির দরজা খোলে দিলেন। মাঝারি গঠনের জেনারেল স্যালুট নিয়ে গাড়ি হতে বের হলেন। চেহারায় অহংকার ও হিংস্রতা প্রকাশিত হচ্ছে।

কনফারেন্স হলে প্রবেশ করার সাথে সাথে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে স্যালুট করলেন। জেনারেলের পিএস ক্যাপ্টেন উডং জেনারেলের সামনে লাল রঙের একটি ফাইল রেখেছেন। ফাইলটি টেনে নিয়ে জেনারেল অংই উইন সবাইকে বসতে বলে বক্তব্য শুরু করলেন,-

“কনফারেন্সে উপস্থিত মায়ানমারের সূর্য সন্তানদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তোমরা দেশ প্রেমের যে দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছো তা জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সরকার এবং সামরিক হাই কমান্ড তোমাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। কাজের সিস্টেম এবং ধারাবাহিকতা ঠিক আছে।” আকিয়াব ডিভিশন কমান্ডার অংঈ উইন একটু বিরতি নিয়ে আবার শুরু করেছেন,-

“বিশ্বের সকল পরাশক্তি আমাদের পক্ষে আছে। লোক দেখানো মৌখিক প্রতিক্রিয়ায় ঘাবড়ে গেলে চলবে না। পার্শ্ববর্তী শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো আমাদের পাশে আছে। তাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। রোহিঙ্গা নিধনের রূপ সমান্য পাল্টাতে হবে। প্রত্যেক থানায় মোতায়েনকৃত ব্রিগেড কমান্ডাররা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের বিস্তারিত ব্রিফ করবে।”

১৩ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চ্যাং হ্লাংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেনারেল অংঈ উইন,-

“ব্রিগেডিয়ার চ্যাং, তোমার ব্রিগেডের কাজ সবচেয়ে বেশি। মংডু শহরের কাছাকাছি রোহিঙ্গারা এখনো দেশত্যাগ করেনি। সীমান্তবর্তী এসব এলাকার রোহিঙ্গারা আমাদের রাষ্ট্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। বড়ছড়া, আংঢাং, কুলুং, সীতাপুরিক্ষা, চব্রেড, মেরুল্লা ঘরাখালী, উধং, খইজ্জ্যারবিল, হাইচ্ছুরাতা, সনখদ্দারবিল, শীলখালী, হঁরছড়া, লম্বাঘুনা, ঘুনাপাড়া, চাইরকম্বু, গদুছড়া, নয়াপাড়া, ধাওনখালী, শাইরাপাড়া, চাইন্দাপাড়া, বাঘঘুনা, কাজিরবিল, নলবনিয়া, বড়ডেইল, খাইন্দাপাড়া, সিকদারপাড়া, হেতাইল্যা, উকিলপাড়া, খাঁরিপাড়া, মাংগালা, বমুপাড়া, নাইতারডেইল, চাইরমাইল, খইল্যাভাঙ্গা, কাউয়ারবিল, জামবইন্যা, বকসুপাড়া, আশিক্যাপাড়া, সুদাপাড়া, নারীবিল, নন্দাখালী, সংখদ্দাবিল, দারোগাপাড়া, পেরামপ্রু, গউজবিল, খোলারবিল, চালিপ্রাং, প’খালী, জামবইন্যা, রাঙ্গাবালি, বড় গউজবিল, রইগ্যাদং, রাইম্যারবিল, কাইমপ্রাং, বুড়া সিকদারপাড়া, রাইম্যাদং, কিয়ারিপ্রাং, নাইংচং, নাইচাপ্রু, লুদাইং এসব এলাকায় ভয়াবহ এ্যাটাক পরিচালনা করতে হবে। মংডুতে হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দর হবে। চায়নার অর্থায়নে বন্দরটির নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির স্বার্থে সমুদ্রবর্তী এসব এলাকা রোহিঙ্গাশূণ্য করা জরুরী। বাঙালি সেটেলারদের কোনক্রমেই মায়ানমারে থাকতে দেওয়া হবে না।”

: “স্যার। রাইট স্যার।” সম্মতি জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার চ্যাং।

: “সব জায়গায় একসাথে অভিযান চালাবে না। এক জায়গায় নিধন শুরু করলে পাশের এলাকার লোকজন এমনিতেই ভয়ে পালাবে।”

: “ইয়েস স্যার। রাইট স্যার।”

: “শহরের কোন রোহিঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবে না। সেখানকার রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিবে। কেউ পালাতে চাইলে পালাতে দিবে না। সরকার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শন করাতে বাধ্য হলে আমরা তাদেরকে দেখাবো। বিদেশিরা বুঝবে যে, আমরা তাদের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রেখেছি।” হা হা হা হাসিতে হলরুম ভরে গেলো।

“ওহ! বলতে ভুলে গেছি। খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে শহুরে রোহিঙ্গাদের রেশন প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।”

একটু বিরতি নিয়ে আবার শুরু করলেন আকিয়াব ডিভিশন কমান্ডার জেনারেল অংঈ উইন,-

“অন্যান্য ব্রিগেড কমান্ডাররা পূর্বের আদেশ মোতাবেক কাজ করবে। তুলাতলীর অভিযানটা একটু বেশি আক্রমনাত্মক হয়ে গেছে। নিরস্ত্র মহামেডানদের বিপক্ষে অত বেশি আক্রমনাত্মক হওয়ার প্রয়োজন নেই।”

পুরো হলরুম ঘুরে জেনারেলের দৃষ্টি স্থির হলো ২৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের সিও লেঃ কর্ণেল কোয়াতের দিকে,-

“কর্ণেল কোয়াত!”

: “স্যার। ইয়েস স্যার।” এটেনশন হয়ে লেঃ কর্ণেল কোয়াতের উত্তর।

: “তোমার ইউনিটে মাইনের স্টোর কেমন আছে? দশ হাজার গজের মাইনফিল্ড তৈরী করা যাবে কি?”

: “করা যাবে স্যার। অর্ডিন্যান্স ডেপোতে অলরেডি বিশ হাজার এন্টি ট্যাংক ও এন্টি পার্সন্যাল মাইনের ডিমান্ড দেওয়া আছে। আমাদের কাছে যে মাইন মজুত আছে তা দিয়ে দশ হাজার গজ সম্পন্ন করা যাবে স্যার।”

:”বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা মার্কিং করে মাইন লাগানোর কাজ শুরু করে দাও। এন্টি ট্যাংকের প্রয়োজন নেই। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবো না। পার্সন্যাল লাগাবে। যে সব রোহিঙ্গা পালিয়ে যাবে তাদের ফিফটি পারসেন্ট যাতে আহত বা নিহত হয়।”

: “স্যার! জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী এন্টি পার্সনাল মাইন লাগানো আন্তর্জাতিক অপরাধ! এমনিতেই আমরা চাপে আছি। এর মধ্যে—-“

: “চুপ। কিসের জেনেভা কনভেনশন! আমরা কী সেখানে সাক্ষর করেছি! করিনি। চাপ টাপ এসব বাহ্যিক, প্রকৃতপক্ষে কোন চাপ নেই। ডাউট না নিয়ে কাজ শুরু করো।” জেনারেলের ধমকে লেঃ কর্ণেল কোয়াতের চেহারাটা ভয়ে চুপসে গেছে।

:”স্যার। আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা)’র ঘাটিগুলো খোঁজে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।” কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হুহ্নায় প্রু বললেন।

মুচকি হাসলেন জেনারেল অংঈ উইন। আকিয়াব ডিভিশনের কর্ণেল (অপারেশন) সুন্দরী সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল উনাই সো এর দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি দিয়ে কিছু বলার সংকেত দিলেন জেনারেল অংঈ উইন। কর্ণেল উনাই সো বলতে শুরু করেছেন,-

“আসলে আরসা বা আরসার ঘাঁটি খোঁজা বালির পাহাড়ে প্রস্রাব করার সমান হবে। আমরা একটি প্লান নিয়ে এগুচ্ছি। সবাই প্লান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।”

সবাই উন্মুখ হয়ে শুনছিলেন কর্ণেল উনাই সো’র বক্তব্য।

হঠাৎ মোবাইল ফোনের রিং টোনের শব্দে নীরবতায় ছেদ নেমেছে। জেনারেল অংঈ ফোন রিসিভ করে কানের কাছে ধরলেন। শুধুমাত্র “স্যার। ইয়েস স্যার। রাইট স্যার। ওকে স্যার।” এসব শব্দই উচ্চারণ করলেন। উপস্থিত সবাই বুঝতে পেরেছেন যে, কোন ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ফোন করেছেন। দীর্ঘ ফোনালাপ শেষে জেনারেল সোজা হয়ে বসলেন। আবারো তাকালেন ব্রিগেডিয়ার চ্যাং হ্লাংয়ের দিকে।

“ব্রিগেডিয়ার চ্যাং!”

: “স্যার। ইয়েস স্যার।”

: “তোমাকে যে আদেশ দিয়েছিলাম তার কিছু পরিবর্তন আছে।”

: “স্যার। প্লিজ স্যার। বলুন স্যার।”

: “কিছুক্ষণ পূর্বেই আমি শহুরে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলাম। আদেশটি বলবৎ থাকবে। তবে কেয়ানডাং এই আদেশের বাইরে থাকবে।”

: “স্যার! কেন স্যার!” বিষ্ময় নিয়ে ব্রিগেডিয়ার চ্যাং এর জিজ্ঞাসা।

: “সেনা সদর হতে চিপ ফোন করেছেন। মারাত্মক এক খবর আছে।”

: “কী এমন মারাত্মক খবর স্যার! যার জন্য আপনার আদেশ পরিবর্তন হয়ে গেলো!”

: “মংডু শহরের কেয়ানডাং এলাকায় একটি বিশিষ্ট রোহিঙ্গা পরিবার আছে। এটা আমরা জানতাম না! এমনকি রোহিঙ্গারাও জানে না!”

: “রোহিঙ্গাদের কোন পরিবার স্যার? আমরা জানি না, তারাও জানে না!”

: “সমগ্র বাঙালি সমাজে পরিবারটি অতি পরিচিত ও সম্মানিত। সারা উপমহাদেশের মানুষ ঐ ব্যক্তিকে চেনে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে যাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো। তিনি আরকান রাজসভার রাজকীয় কবি ছিলেন। মহাকবি আলাওল! অতি দুঃখের বিষয় হলো উনাকে বিখ্যাত হতে সহযোগিতা করেছেন আমাদেরই এক অভিশপ্ত বৌদ্ধরাজ। পরে অভিশাপে পতিত রাজা রাজ্য হারালে মহাকবি আলাওল নতুন মুসলিম রাজার সভা কবিতে পরিণত হন। “

: “স্যার!” ব্রিগেডিয়ারের কণ্ঠ আর্তচিৎকারের মতো শুনালো।

: “ইয়েস! বিদেশি একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, মহাকবি আলাওলের পরবর্তী প্রজন্ম মংডু শহরের কেয়ানডাং এলাকায় বসবাস করে আসছে। তবে কোন পরিবারগুলো বা কোন পরিবারটি আলাওল প্রজন্ম সেটি তারা নিশ্চিত করতে পারেননি। আমাদের সদর দপ্তরের নিকট তারা যে সকল তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছে সে সকল তথ্য প্রমাণ এটা নিশ্চিত করেছে যে মহাকবি আলাওলের পরিবার কেয়ানডাং’এই বসবাস করছে। আমার প্রতি আদেশ এসেছে কেয়ানডাং’কে মানচিত্র হতে মুছে দিতে হবে।”

: “স্যার! কবি তো কবিই। কবি-সাহিত্যিকরা নিরীহ প্রকৃতির হয়। তাদের বংশধররা কী আর করবে!”

: “নো নো! নজরুল নামের এক কবি সমগ্র উপমহাদেশে ইংরেজদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো! কবির একটি মাত্র কবিতা যে কোন ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে দিতে যথেষ্ট! সব সময় মনে রাখবে সাপের বাচ্ছা সাপই হয়। সুযোগ পেলে ছোবল মারবেই। সো বি কেয়ারফুল এন্ড কেরি অন মাই অর্ডার।

: “স্যার। বুঝতে পারছি স্যার। শহরেও এ্যাটাক চলবে।”

: “না। শহরে এ্যাটাক চলবে না। শুধুমাত্র কেয়ানডাং এলাকাটি শহরে থাকবে না।”

: “স্যার। রাইট স্যার।”

: “সকল অপারেশনে স্থানীয় প্যাগোডার ভান্তেদের রাখার চেষ্টা করবে।”

: “স্যার। সকল ভান্তে সহযোগিতা করে না। কেউ কেউ উল্টো উপদেশ বাণী শুনিয়ে দেয়,-“জীব হত্যা মহাপাপ। সকল জীবের সেরা জীব মানুষ!”

: “সবাই সহযোগিতা করবে না এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ আমরা বৌদ্ধের অহিংসা মন্ত্র ত্যাগ করেছি। তাও তাদের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে হবে। অনেকে আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। যারা করছে না তারাও একসময় সহযোগিতা করবে। তবে সহযোগিতা না করলেও ভান্তেদের খ্যাপানো যাবে না।”

: “স্যার। রাইট স্যার।”

: “আমার সর্বশেষ কথা, প্রত্যেক সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীর গর্ভে বার্মিজ সন্তান চাই। কোন সুন্দরী যুবতী যাতে ভার্জিন অবস্থায় দেশত্যাগ করতে না পারে সেদিকে সবাই সজাগ দৃষ্টি রাখবে।” লোভের আগুন জ্বলে ওঠলো জেনারেলের অভিব্যক্তিতে। কনফারেন্সের সদস্যদের চোখ কামনার আগুনে চকচক করছে। নারী সদস্যরা মুচকি হেসে পাশের সহকর্মীকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুনিয়ে উৎসাহিত করছে। নারী সহকর্মীদের নোংরা উৎসাহে পুরুষদের নোংরা হাসি চওড়া হচ্ছে।

“আমার কথা শেষ। কনফারেন্স এখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করছি। সবাই ভালো থেকো। বৌদ্ধের মায়ানমার নিরাপদ থাকুক।”

জেনারেল অংঈ উইন ওঠে দাঁড়ালেন। সাথে সাথে সবাই দাঁড়িয়ে স্যালুট করলো। জেনারোলের পিএস ক্যাপ্টেন উডং লাল ফাইলটি নিয়ে গাড়ির কাছে দৌঁড়ে গেলেন। কর্ণেল উনাই সো’ও এসে গাড়ির কাছে দাঁড়ালেন। আলো-আঁধারের অন্তরালে পাশে কেউ নেই। পিএস ইতিমধ্যে গাড়ির সামনের সিটে ফাইল-পত্র সাজিয়ে নিচ্ছেন। জেনারেল অংঈ সুন্দরী কর্ণেল উনাই সো’র বুকে কমান্ড স্টিক দিয়ে মৃদু খোঁচা দিয়ে বললেন,- “আজ একটু বেশি রসালো মনে হচ্ছে!”

: “আপনার কনফারেন্স বলে কথা। তাই সাজগোজ একটু বেশিই করলাম। তাছাড়া আমি তো আপনার কাছে রসালো হবোই।” হাসতে হাসতে কর্ণেল উনাই সো।

: “চলো। আজ আমার ওখানে ডিনার করি।” 

: “না বললেও যেতাম। শুধু ডিনার কেন? ড্রিংকস করবো না?”

: “অফকোর্স! হোয়াই নট? তোমার মতো সুন্দরী আছো বলেই তো আমার হৃদয় কাননে ফুল ফোটে।”

: “মেডাম কোথায়?”

: “নেই। ইয়াঙ্গুনে বাপের বাড়িতে পাঠিয়েছি।”

: “হঠাৎ কী মনে করে পাঠিয়ে দিলেন?”

: “ও ব্লাড সহ্য করতে পারে না। আমরা এখন ব্লাড নিয়ে খেলা করছি। তাই কয়েকদিনের জন্য পাঠিয়ে দিলাম।”

: “ওয়াও! তাইলে তো দারুণ মজা হবে!”

: “কেন নয় ডার্লিং! চলো চলো। আজ রাতটা একান্ত আমাদের।”

সাইত্রিশ বছরের কর্ণেল উনাই সো আটান্ন বছরের বুড়ো জেনারেলর বগলদাবা হয়ে গাড়িতে চড়ে বসলেন।

মুহাম্মদ ইয়াকুব

কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.