ইতালির ত্রাভিসোতে এজিডিও বাতালগিয়া নামের এক লোক তাঁর আড়াই বছরের শিশুকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলে, নিজেও গলায় চুরিকাঘাত ঘরে আত্মকথা করেন।

ইতালি II আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:

“আমি জানি আমি দৈত্য হিসাবে সংজ্ঞায়িত হব, কিন্তু আমার ভেতরে যে বেদনা অনুভূত হচ্ছে তা কাউকে বুঝাতে পারব না। আমি আমার ছেলেকে ভবিষ্যতের কষ্ট থেকে বাঁচাতে এটি করেছি। অনেক দেরি হওয়ার আগে এখনই এটা করা উচিৎ”- নিজের জীবন নেওয়ার আগে রান্নাঘরে রেখে যাওয়া চিঠিতে এসব লিখে যান ইতালির ত্রাভিসোবাসী এজিডিও বাতাগলিয়া।

আমি আমার ছেলেকে ভবিষ্যতের ভোগান্তি থেকে বাঁচানোর জন্য এটি করেছি”- মাত্র আড়াই বছরের ছেলে ম্যাসিমিলিয়ানোকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে যান, এবং নিজেকে হত্যা করার লক্ষ‍্যে রান্নাঘরে নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করেন শিশুটির বাবা ৪৩ বছরের এজিডিও বাতাগলিয়া।

একটি নোটপ্যাড থেকে ছেঁড়া চারটি সাদা শীটে, ৪৩ বছর বয়সী ওই বাবা কয়েকবার তার সন্তানের রোগের লিখিত বর্ণনা দেন, যা কয়েক মাস ধরে তাকে গভীর হতাশায় ফেলে। এটি অটিজমের একটি সম্ভাব্য রূপ, যার কারণে শিশুটির ভবিষ্যত দুর্ভোগের মারাত্বক ঝুঁকি ছিল।

তাঁর ছেলের “স্বাভাবিক” জীবনের কোন আশা ছিল না, এবং তার এই ভয়ই সন্তানের মৃত‍্যুর কারণ হয়ে উঠে।

তাঁর পাশে ছিল শিশু ম্যাক্সিমিলিয়ানের মৃতদেহ। কোন ঘা এর চিহ্ন নেই, তবে ঘাড়ে সুস্পষ্ট লক্ষণ ছিল। বাচ্চাটিকে দম বন্ধ করে মারা হয়, তবে এটিই প্রথম আঘাত কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত হবে।

৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি, পাদুভা অঞ্চলের গালিয়েরা ভেনেতায় পাভান সংস্থার কর্মচারী ছিলেন। তার ছেলের অসুস্থ‍তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পুরো ব‍্যাপারটি তার পরিবারকে জানাননি। ঘটনার মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি এবিষয়ে অবগত হন। ওই বাবা চিঠিতে আরও লিখেন,”পরিস্থিতি কতটা গুরুতর তা অন্যরা বুঝতে পারে না, আমি জানি” এতে প্রমাণ হয তিনি মারাত্বক মানসিক যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, আত্মহত্যার ঘটনাটি দুপুরের আগেই ঘটেছিল। মাটিতে রক্ত শুকিয়ে গিয়েছিল, যা প্রমাণ করে লোকটির মৃত্যুর সময় ইতিমধ্যে বেশ কয়েক ঘন্টা কেটে গেছে।

হাতে লিখিত পৃষ্ঠাগুলিতে কোন নির্দিষ্ট আত্মীয়কে সম্বোধন না করে, সবাইকে উদ্দেশ‍্য করে লিখে যান, “যারা চিঠিটি পড়বেন, নিচের সর্বশেষ পৃষ্ঠাটি পড়ুন, যা ঘটেছে সে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে।

“আমার স্ত্রী আর আমি একসময় আর থাকব না, আমার ছেলে একা থাকবে, এবং কারও সাহায্যের উপর তাকে নির্ভর করতে হবে সে সম্পর্কে আমি কখনোই ভাবতে পারি না” এভাবেই চিঠির শেষ অংশে লিখেন ওই হত‍্যাকারী বাবা। অটিস্টিক ছেলেকে নিয়ে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে ম্যাক্সিমিলিয়ানকে হত্যা করে নিজের জীবনের ইতি ঘটান তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.