কিশোরী বধূটা

অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে
তার ঘরের মানুষটার জন্যে,
আজ বৃহস্পতিবার কাল সাপ্তাহিক ছুটি
আসবে তার কাছে, প্রতীক্ষার অবসান হবে এক সপ্তাহের।
কত কিছু তার মনে লুকিয়ে রেখেছে-
তার মানুষটার জন্যে,
তা শুধু সে নিজেই জানে;
কিছুই চাই না তার, নেই কোন অভিলাষ,
যা দিবে তার মানুষ তাতেই সে সন্তুষ্ট।
মানুষটিও তার মতোই সাদাসিধে, অল্প বেতনের চাকরি;
কী আর করতে পারে, দুই ইদে দুইটা শাড়ী মাঝখানে কিছু গজ কাপড়…

একবার তার সাধ হলো পরাবে বধুকে সোনার নূপুর,
বন্ধুদের হতে করে ধার কিনে ফেললো সোনার নূপুর…
চললো সে বাড়ী আজ বৃহস্পতিবার…

বধূটি দেখে তার মানুষটিকে, পেয়েছে হাতে চাঁদ সে
কিছুই আর চাইনে আর….

রাতের খাবার খেয়ে
বিছানায় এসে বললো সে- ‘বউ পা দুটো দাও দেখি?
হঠাৎ এ কথাতে শিউরে উঠে বধূটি বলে-কি বলেন আপনি?
আমাকে তো দোজখে নিবেন আপনি…

আরে দাওনা পা’খানা কিচ্ছু হবে না
আমি যে বলেছি’…

বাড়িয়ে দেয় বধুটি দুধে আলতা নগ্ন দুটি পা…
মনের মাধুরী মিশিয়ে সব উচ্ছ্বাস নিয়ে বধুটির পায়ে,
পরিয়ে দেয় সোনার নুপুর…

খুশিতে আত্মহারা হয়ে বধুটির চোখে নোনা জল,
জড়িয়ে ধরে তার মানুষটিকে- কী যে করেন না আপনি!
এত টাকা দিয়ে কি দরকার ছিলো,
এখনো মাসের দশ দিন বাকি
কি করে চলবে সামনের কটা মাস?

বউ খাই আর নাই খাই হয়তো
হয়তো কষ্ট করে চলবো কটা মাস…
কি বা তোমায় দেই আমি- ঐ দুই ইদে দুইটা শাড়ী মাঝখানে কিছু গজ কাপড়…
জানো কি বধু তুমি
আমার মনে যে তোমায় নিয়ে অনেক সাধ
কথায় আছে না- “সাধ আছে যার সাধ্য নাই তার
আবার সাধ্য আছে যার সাধ নাই তার”
বধুটি বলে উঠে এবার কষ্ট কিসের আপনার- আমি তো আজন্ম আপনার।
কখনো কি কিছু কি চেয়েছি আমি?
কিছুই চাইনে আমার, অল্পতেই তুষ্ট আমি,
আপনাকে পেলেই হবে আমার।।

এটাই প্রতিনিয়ত প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনি…।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.