কমরেড খোন্দকার, ইউরোপ ব‍্যুরো, বার্তা কক্ষ:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানেথাআ সভাপতিথ্ব করেন সর্ব ইউরোপিয়ান আ’লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম এবং পরিচালনায় ছিলেন সুইডেন আ’লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক,কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন,বঙ্গবন্ধুর যে চারটি আদর্শ দিয়ে গিয়েছিলের তার মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র , জাতীয়তাবাদ এবং গনতন্ত্র। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তার আদর্শ গুলোকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। বাংলাদেশের দ্বিতীয় মীর জাফর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে তাতে ধর্মীয় সুরা কেরাত যুক্ত করেন। এরপর আরেক সামরিক শাসক এরশাদ ক্ষমতায় এসে সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্মের বিধান যোগ করেন। এভাবে বাংলাদেশ যে আদর্শের ভিত্তিতে তৈরী হয়েছিলো সেই আদর্শকে তারা হত্যা করেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো আর এরশাদ বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধানকে হত্যা করে। অন্য কোন দেশ হলে এদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসাবে মরনোত্বর বিচার হতো। আজ আমরা বঙ্গবন্ধুর তৈরী বাংলাদেশ থেকে অনেক দুরে সরে গেছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে আমাদের যে সেকুলার সামাজিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিলো আজ তাও নেই। পুরো সমাজ ধর্মান্ধতার বিষে জর্জরিত। দেশের মাদ্রাসাগুলোতে ধর্ম শিক্ষার পরিবর্তে ধর্মান্ধতার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এই ধর্মান্ধতাই আমাদের স্বাধীনতার শত্রু, আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় শত্রু।’৭১ সালে আমরা বাইরের শত্রুকে পরাজিত করেছি ঠিকই, ভিতরের শত্রুকে পরাজিত করতে পারিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আ’লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ৬ দফা না দিলে আগরতলা মামলা হতো না, আর আগরতলা মামলা না হলে গনঅভ্যুত্থান হতো না। গনঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধুকে আমরা মুক্ত করতে পারতাম না আর বঙ্গবন্ধু ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্তি না পেলে ‘৭০ নির্বাচনে আমরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতাম না। বঙ্গবন্ধু যা বিশ্বাস করতেন তাই বলতেন, আর অন্যায়ের সাথে তিনি কখনো আপোষ করতেন না। তার রাজনীতি ছিলো অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে। আর একারণেই জীবনের ১৩ টি বছর তাকে অন্ধকার কারাগারে কাঁটাতে হয়েছে।,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বাংলাদেশে অবশ‍্যই স্থাপিত হবে। ৭১’র পরাজিত শক্তিরা আবার মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে
তথ্যমন্ত্রী এবং আ’লীগ- এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করাই বিজয় দিবসের প্রত্যয়। বাংলাদেশের সার্থকতা সেখানেই, বঙ্গবন্ধু যে উন্নত রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাকে হত্যা করার কারণে তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে না পারলেও আজ তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে দেশ।

আজ অর্থনৈতিক, মানব উন্নয়ন, সামাজিক- সব সূচকে আমরা পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি, অনেক সূচকে আমরা ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছি। এখানেই বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যার সার্থকতা, কিন্তু বিজয়ের ৪৯ বছর পরও আজ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মাঝেমাঝে আস্ফালন করে। এর কারণ হচ্ছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি’ এর অন‍্যতম কারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে লড়াই করেছিল, দলগতভাবে সেই জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি তাদের জোটসঙ্গী করেছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা কিংবা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে এবং দিবানিশি স্বপ্ন দেখে এদেশকে কীভাবে আবার পাকিস্তান- তালেবানি রাষ্ট্র বানানো যায়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এধরণের ষড়যন্ত্র রুখতে বিজয়ের এদিনে বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করার প্রত্যয় ঘোষণা করেন মন্ত্রী।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,
ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস ফরাজিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীগণ।

সর্ব ইউরোপিয়ান আ’লীগের সাধারন সম্পাদক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি আশু রোগ মুক্তির জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.