আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:
মসজিদের বিকল্প হিসেবে (বাবরি মসজিদ – রাম মন্দির থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে) ধন্নিপুর গ্রামের একটি সরকারি কৃষি ফার্মে যে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছিল মুসলিমদের, তা নির্মাণের সব দায়িত্ব পড়েছে ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উপর। সেখানে মসজিদেরও আগে একটি হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় এই ট্রাস্ট।

১৭০০ স্কয়ার মিটার এলাকা জুড়ে মসজিদ ছাড়াও সেখানে থাকছে ৩০০ বেড বিশিষ্ট‍্য হাসপাতাল, যৌথ রান্নাঘর, একটি ইন্দো-ইসলামিক গবেষণাকেন্দ্র এবং একটি সংগ্রহশালা। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইসলামিক সংস্কৃতির মিলন, ভারতীয় সমাজের ওপর তার প্রভাব – এসব বিষয় নিয়ে সেখানে গবেষণা হবে এবং একে আর বাবরি মসজিদ বলার অবকাশ নেই, এর নাম হবে “ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কমপ্লেক্স”।

৫ একর জায়গার উপরে নির্মাণ করা হবে সম্পূর্ণ সোলার শক্তির উপর নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিনন্দিত মসজিদ এবং উক্ত মসজিদে একসঙ্গে ২০০০ জনের নামাজ আদায় করার ব‍্যবস্থা থাকবে। মসজিদটি পুরোনো সেই বাবরি মসজিদের মতো দেখতে হবে না। একটি আধুনিক ভবন তৈরি হবে সেখানে।

এই প্রকল্পের স্থপতি হিসেবে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার স্থাপত্য বিভাগের ডিন অধ্যাপক এস এম আখতারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি ট্রাস্ট অফিসে ৫ একর জায়গার ওপর এই ভবনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। শনিবার প্রকাশিত নকশায় নতুন মসজিদটি পাশ্চাত্য স্থাপত্যের আদলে নির্মিত হচ্ছে বলে দেখা যায়। এতে বিশালাকার গম্বুজ এবং মসজিদ চত্বরে কার পার্কিংয়েরও ব্যবস্থা থাকছে।

আইআইসিএফ ট্রাস্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, সারা বিশ্বের মসজিদগুলোতে যে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী প্রদর্শন করা হয়েছে তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই ডিজাইনে।

এ ব‍্যাপারে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থপতি আখতার বলেছিলেন, স্থাপত্য বিদ্যায় কোন কিছুই হুবহু নকল হয় না, সবসময়ই নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। যা কিছু পুরোনো, তা পুরাতত্বের বিষয় আর আমরা যখন কিছু বানাই, সেটা হয় নতুন সৃষ্টি। তিন গম্বুজওয়ালা যে বাবরি মসজিদের ছবি মানুষের মনে গেঁথে আছে, নতুন জায়গাটি কখনোই তার মতো হবে না । পুরোনো বাবরি মসজিদের নকল যেমন হবে না, তেমনই মানবিকতা, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইসলামের মূল চিন্তা – তিনটি বিষয়ই একত্রিত হবে নতুন পরিসরের নকশায়।”

উল্লেখ‍্য, ভারতের উত্তর প্রদেশের শহর অযোধ্যায় ১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা ধ্বংস করে বাবরি মসজিদ। এ নিয়ে অঞ্চলটিতে বহু বছর যাবৎ হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ চলতে থাকে।

এক পর্যায়ে বিতর্কিত এই স্থান নিয়ে রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট ও সুন্নি ওয়াকিফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে অবশেষে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সেখানে রাম মন্দির তৈরির পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয় ভারতের সুপ্রিমকোর্ট এবং তারই সাথে মসজিদ নির্মাণের জন্য আলাদা জমি দেয়ার নির্দেশ দেয় সরকারকে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রকল্পের প্রথম অংশ হিসেবে মসজিদটির গঠন কেমন হবে তার চিত্র প্রকাশ করা হয়। আগামী বছরের শুরুর দিকে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ার কথা রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.