শিল্প ও সাহিত‍্য II আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:
কথাসাহিত‍্যিক রাবেয়া খাতুন আর নেই। তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার বিকালে ঢাকার বনানীতে ৮৫ বছর বয়সে তাঁর নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতার পাশাপশি সাংবাদিকতাও করেছেন। তিনি উপন্যাস লিখেছেন পঞ্চাশটিরও বেশি। এ পর্যন্ত চার খণ্ডে সংকলিত তার ছোটগল্পের সংখ্যা চারশো’রও বেশি। বাংলাদেশের ভ্রমণ সাহিত্যেরও অন্যতম লেখক ছিলেন তিনি।

প্রথম উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) প্রকাশের পরপরই কথাসাহিত্যিক হিসেবে সুনাম হয় তার। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। তিনি বাংলা একাডেমির পর্ষদ সদস্য ছিলেন।

রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন‍্য সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাবেয়া খাতুনের মরদেহ রাখা হবে। দুপুর ২টায় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

রাবেয়া খাতুনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার বিক্রমপুরে মামার বাড়িতে; তার পৈত্রিক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামে৷ শৈশবে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

১৯৫২ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক এ টি এম ফজলুল হকের সাথে তার বিয়ে হয়। ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী এই চার সন্তানের জননী তিনি।

তাঁর লেখা অনেকগুলো উপন্যাস রয়েছে। এর মধ‍্যে উল্লেখযোগ‍্য – মধুমতী, সাহেব বাজার, অনন্ত অন্বেষা, রাজারবাগ শালিমারবাগ, মন এক শ্বেত কপোতী, ফেরারী সূর্য, অনেকজনের একজন।

রাবেয়া খাতুন বাংলাদেশের ভ্রমণসাহিত্যের অন্যতম লেখক। কর্মজীবনে অনেক মানুষের সান্নিধ্যে এসেছেন তিনি। উদ্বুদ্ধ হয়েছেন যাদের দ্বারা স্মৃতিমূলক রচনার মধ্য দিয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব ও বৈচিত্র্যময় ব্যক্তিত্বকে পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন।

তাঁর লেখা চলচ্চিত্র ‘মেঘের পর মেঘ’, ‘কখনও মেঘ কখনও বৃষ্টি’, ‘ধ্রুবতারা ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য নাটক।

রাবেয়া খাতুন জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের গঠনতন্ত্র পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের বিচারক, শিশু একাডেমির পর্ষদ সদস্যের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ লেখক শিবির, ঢাকা লেডিজ ক্লাব, মহিলা সমিতি, বিজনেস ও প্রফেশনাল উইমেন্স ক্লাব, বাংলাদেশ কথা শিল্পী সংসদ এবং বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

রাবেয়া খাতুন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জসিমউদ্দিন পুরস্কার, শেরে বাংলা স্বর্ণপদক, চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক, টেনাশিনাস পুরস্কার, ঋষিজ সাহিত্য পদকসহ আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.