আর্লি-স্টার ডেস্ক:
সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি পদ্মা বহুমূখী সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত এই ট্রাস ব্রিজে ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে থাকবে একটি একক রেলপথ। সেতুটি সম্পন্ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপন হবে।

কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই তিনটি বিশ্ব রেকর্ড করে নিয়েছে এই পদ্মা সেতু।

প্রথম রেকর্ড হচ্ছে, রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকার ক্ষমতা রাখবে পদ্মা সেতু, কারণ ভূমিকম্পে টিকে থাকার জন‍্য এতে ১০ হাজার টন সক্ষমতার ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’ লাগানো হয়েছে, যা আজ পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সেতুতে লাগানো হয়নি।

দ্বিতীয় রেকর্ড হচ্ছে, পদ্মা সেতুর পাইলিং। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে ১২২ মিটার গভীরে তিন মিটার ব্যাসার্ধের স্টিলের পাইল বসানো হয়েছে। সেতুর জন‍্য এমন মোটা পাইল, এত গভীরে আজ পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও বসানো হয়নি।

তৃতীয় রেকর্ড হচ্ছে, নদীশাসন। নদীশাসনে চীনের ঠিকাদার সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সঙ্গে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে, যা এর আগে এককভাবে বিশ্বের আর কোথাও হয়নি। এ ছাড়া পদ্মা সেতুতে পাইলিং ও খুঁটির কিছু অংশে অস্ট্রেলিয়া থেকে আনানো অতি মিহি (মাইক্রোফাইন) সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সিমেন্ট সাধারণত ব্যবহার করা হয় না।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.