ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ফ্রান্স, জার্মান, ইস্রায়েল ভারতের জনগণকে সঙ্কটপূর্ণ সময়ে সহায়তার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করবে বলে টুইটারে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কমিশনার জেনেজ লেনারসিক। এছাড়াও ভারতকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ফ্রান্স, জার্মান, ইস্রায়েল।

আন্তর্জাতিক II আর্লি-স্টার বার্তা কক্ষ:

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইস্রায়েল এবং জার্মানি আজ কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গের সাথে লড়াইকারী দেশ ভারতকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, করোনাভাইরাস ভারতকে ধ্বংস করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করার হুমকি দিচ্ছে। মার্চের গোড়ার দিকে কোভিড সংখ্যা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ইউরোপ ভারতকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। অবশেষে আজ রোববার বিকেলে সহায়তার আশ্বাস পেলো ভারত, যার কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ছুঁয়েছে।

ভারত কর্তৃক সহায়তার জন্য অনুরোধের পরে আমরা ইইউ সিভিল প্রটেকশন মেকানিজমকে সক্রিয় করেছি। এদের সহায়তার লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে ইইউ। আমাদের IRCC ইতিমধ্যে জরুরী ভিত্তিতে IU MS সরবরাহ করতে প্রস্তুত, যার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে অক্সিজেন ও ওষুধ দ্রুত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট এর জন‍্য। ইউরোপীয় কমিশনার জেনেজ লেনারসিক টুইট করে এসব কথা জানান।

ভারতে মহামারী পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। ভারতের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা ভারতীয় জনগণের সাথে পূর্ণ সংহতিতে দাঁড়াচ্ছি!

ইস্রায়েলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা না পাওয়া গেলেও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইস্রায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের অ্যামিচাই স্টেইন ইস্রায়েল সহায়তার হাত বাড়াবে বলে টুইট করেছেন।

তিনি টুইটটিতে আরও লিখেছেন, “ভারতের কোভিড ১৯-এর পরিস্থিতি অনুসরণ করে: ইস্রায়েল ভারতে চিকিৎসা সহায়তা প্রেরণের কথা বিবেচনা করছে, কর্মকর্তারা আমাকে বলেছেন।”

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলও বলেছিলেন যে, তাঁর সরকার ভারতের জন্য জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”কোভিড -১৯ আবার আপনার সম্প্রদায়ের মধ‍্যে যে ভয়াবহ দুরবস্থার তৈরি করেছে, তাঁর জন‍্য আমি ভারতের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাতে চাই,” ম্যার্কেল তার মুখপাত্র স্টিফেন সেবার্টের টুইটারে শেয়ার করা বার্তায় একথা বলেন।

যদিও জার্মানি কী সহায়তা দেবে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, ডের স্পিগেল সাপ্তাহিক নামহীন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনী অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য একটি অনুরোধ পেয়েছে।

শুক্রবার ফ্রান্স বলেছিল যে, এই সঙ্কটে ভারতের পাশে রয়েছে। “আমি কোভিড-১৯ মহামারীর পুনরুত্থানের মুখোমুখি ভারতীয় জনগণের কাছে সংহতির বার্তা পাঠাতে চাই। ফ্রান্স এই সংগ্রামে আপনার সাথে রয়েছে, যে কারও হাত ছাড়েনি। আমরা আমাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত,” ফরাসী রাষ্ট্রদূত এমানুয়েল লেনেন, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এই বার্তাটি টুইট করেছেন।

ভারতের হাসপাতালগুলি বিছানা এবং ওষুধ সরবরাহের লক্ষ‍্যে লড়াই করে যাচ্ছিল, তবে রাজ্য থেকে অক্সিজেন ঘাটতির রিপোর্ট পাওয়াতে খুব চাপের মুখে রয়েছে রাষ্ট্রটি। জাতীয় রাজধানী দিল্লি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সপ্তাহের শুরু থেকেই দিল্লী সঙ্কটের মুখোমুখি। একাধিক হাসপাতাল তাদের সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে – কখনও কখনও দিনে তিন বা চারবার।

গত সপ্তাহে জাতির উদ্দেশ‍্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় কোভিড তরঙ্গকে “তুফান” (ঝড়) বলে আখ‍্যায়িত করেছেন, যা সারা দেশে বয়ে গেছে।

আইনবিদ ও বিশিষ্ট ভারতীয়-আমেরিকানদের দ্বারা বাইডেন প্রশাসন তীব্র চাপের মুখে পড়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকাসহ অন্যান্য ভ্যাকসিন এবং ভারতে মেডিকেল সরবরাহ করতে, যা অস্ট্রিয়া-আমেরিকানদের জাহাজে ইতোমধ‍্যে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গ্রামগুলিকে কোভিডের আক্রমন থেকে অবশ্যই বিরত রাখতে হবে” বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় তরঙ্গ “সকল উপায়ে” গ্রামে ছড়াতে দেওয়া বন্ধ দেয়া যাবে না এবং গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি লোককে টিকা দেওয়া হবে, যে বর্তমানে দেশের সামনে চ্যালেঞ্জটি গত বছরের চেয়েও বড়, বলেন মোদী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.