ছোট গল্প

অপুর বয়স তখন তের বছর।অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র।হঠাৎ খবর শোনা গেলো দেশে যুদ্ধ লেগে যাচ্ছে।সকল স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা হলো।পাকিস্তান হানাদারদের অত্যাচার,উৎপীড়ন আর সহ্য করা যাবেনা।তাদেরকে প্রতিহত করতে বাঙ্গালীরা পাল্টা জবাব দিতে হবে।গ্রামে গ্রামে মুক্তিবাহিনী ঘটন করা হচ্ছে।অপুর মনে আগ্রহ জাগে সেও যুদ্ধ করবে।দেশকে রক্ষা করতে তারও কিছু করা দরকার।কিন্তু সে তো ছোট,কে তাকে তাদের দলে নিবে?আবার বাড়ি থেকেও পারমিশন দিবেনা।

অপু তার সমবয়সী ছেলেদের সাথে পরামর্শ করে কি করে মুক্তিবাহিনীর দলে যোগ দেয়া যায়।তারপর একদিন বিকেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে,তিনজন মিলে,গ্রামের অদূরে মুক্তিযাদ্ধা ক্যাম্পে গিয়ে এক বড় ভাইকে অনুরোধ করলো তাদেরকে দলে নেয়ার জন্য।অপুর কথায় বড় ভাই প্রথমে দ্বিধায় পড়েন। পরে কি মনে করে বললেন,সাহস আছে তো? পারবি ছদ্দবেশে পাকসেনা ক্যাম্পের খবর আমাদের কাছে পৌছাতে?তিনজন একসঙ্গে বললো জি ভাইয়া ইনশাআল্লাহ পারবো।বড় ভাই কয়েকদিন ট্রেনিং দিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে দিলেন। কিছুদিন পর থেকে ওরা তিনজন মুক্তিযাদ্ধাদের সাথে কাজে লেগে গেলো।

তিনজন ভিন্নভাবে ছদ্দবেশে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাকসেনাদের খবর মুক্তিবাহিনীর কাছে পৌছে দিতো। ছোট হিসেবে পাকসেনা এদেরকে তেমন গুরুত্ব দিতোনা। এই সুযোগে তারাও কাজ সেরে নিতো। তবে মাঝে মাঝে বিপদেও পড়তে হতো।কৌশলে তারা সেই বিপদ অতিক্রম করতো।

এদিকে ছেলেদের হারিয়ে গ্রামের সবার বাড়িতে কান্নার মাতম। এদিক সেদিক কোথাও খুঁজে না পেয়ে,অভিভাবকরা ধরে নিয়েছেন ছেলেরা হয়তো মিলেটারীর গুলিতে মরে গেছে। নতুবা পাকসেনা এদেরকে পাচার করে ফেলেছে।

ন’মাস পরে দেশ স্বাধীন হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে লাল সবুজের পতাকা মাথায় বেঁধে,বন্ধুদের নিয়ে গর্বে অপু বাড়ি ফিরলো। হারানো ছেলেদের ফিরে পেয়ে পুরো গ্রামে আনন্দের বন্যা। কয়েকদিন পর স্কুল খুললো।শিক্ষক ছাত্রছাত্রী সবাই অপু সহ ক্ষুদে তিন মুক্তিযাদ্ধাকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানালো। সবার মুখে উচ্চারিত হলো জয় বাংলা,বাংলাদেশ স্বাধীন।

__শাহারা খান
কবি, লেখিকা (ইংল‍্যান্ড)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.