লিবিয়ার উপকূল প্রহরী (কোষ্ট গার্ড) বিগত ৪৮ ঘন্টার মধ‍্যে প্রায় ১০০০ অভিবাসীকে তীরে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরো জানিয়েছে যে, তারা” ঝুঁকির মুখোমুখি” ছিল।

মধ‍্যপ্রাচ‍্য II সম্পাদনা ডেস্ক:

অভিবাসনের আন্তর্জাতিক সংস্থা (আইওএম) সোমবার জানিয়েছে যে উপকূলরক্ষী এবং উপকূলীয় সুরক্ষার মাধ্যমে গত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রায় এক হাজার অভিবাসীকে বাধা দিয়ে লিবিয়ায় ফিরিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জেনেভাতে আইওএম-র মুখপাত্র সাফা মেশহিলির মতে, রবিবার রাতে প্রায় ৫০০ জনকে তোলা হয়েছিল।

এর আগে, আইওএম জানিয়েছিল যে শনিবার লিবিয়ার উপকূলে ৩১০ জন অভিবাসীকে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং বাকী ১৭৩ জনকে ফেরত নেওয়া হয়েছিল।

গত দু’দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের মধ‍্যে এ বছর লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া লোকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

আইওএম লিবিয়ার অভ্যন্তরে অভিবাসীদের চিকিৎসার বিষয়ে তাঁর আপত্তির কথা পুনরাবৃত্তি করেছে। তাছাড়া “লিবিয়া কোন নিরাপদ বন্দর নয়,” বলে টুইট করেছে। “নির্বিচারে আটকের অবশ্যই শেষ হওয়া উচিত।”

গত এক দশকে আফ্রিকা এবং মধ্য প্রাচ্যের অভিবাসীদের ইউরোপে পৌঁছানোর প্রত্যাশায় একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে লিবিয়া। মধ্য ভূমধ্যসাগর জুড়ে সমুদ্রের রুট অত্যন্ত বিপজ্জনক কারণ ক্রসিং তৈরি করা নৌকাগুলি প্রায়শই উপচে পড়া এবং অনিরাপদ থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমুদ্র পারাপার রোধে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী এবং অন্যান্য স্থানীয় দলগুলিকে সমর্থন করেছে।

যেসব অভিবাসী লিবিয়ার উপকূলরক্ষী দ্বারা ধরে নিয়ে এবং লিবিয়ায় ফিরে এসেছেন তাদের নিয়মিতভাবে আটক কেন্দ্রগুলিতে রাখা হয় যেখানে তাদেরকে নির্যাতন, ও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়।

১৯ জানুয়ারী, ইউরোপ অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা লিবিয়ার উপকূলে গিয়ে পড়ে এবং কমপক্ষে ৪৩ জন ডুবে যায়। আইওএম জানিয়েছে, মৃত‍্যুবরণকারীদের মধ‍্যে সবাই পশ্চিম আফ্রিকার পুরুষ।

অভিবাসীদের মৃত্যুতে এই বছর ভূমধ্যসাগরে প্রথম রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়েছিল। ১৮ ই মার্চ, লিওয়ানের জুওয়ারা শহরের নিকটবর্তী উপকূলে একটি জাহাজ ভাঙ্গনে কমপক্ষে ৬০০ অভিবাসী প্রাণ হারান।

উল্লেখ‍্য, ফেব্রুয়ারিতে নতুন লিবিয়া সরকার বলেছিল যে, অভিবাসন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.