করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় লন্ডনে দ্বিতীয় দফা লকডাউন চলছে। ছয়জনের বেশি বাহিরে গ্যাদারিন করতে নিষেধ করা হয়েছে।মসজিদগুলো আবারও বন্ধ করা হয়েছে। এমন কি হাউজ পার্টিও নিষেধ করা হয়েছে। আত্মীয় স্বজন বন্ধুর কাছাকাছি যেতে না পারায়, কিংবা মসজিদে নামাজ পড়তে না পারায়,হয়তো আমাদের অনেক কষ্ট। কিন্তু তারপরেও আল্লাহর কাছে হাজারও শুকরিয়া আমরা যে এখনও সুস্হ অবস্হায় বেঁচে আছি। আর যে যে দেশে আছি, সে দেশের আইন মান্য করা আমাদের কর্তব্য। কারণ আইন তো জনগণের কল্যানের জন্যই করা হয়।

বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কারনে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের যেকোন দেশের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি। সরাসরি লাইভে কথা বলতে পারছি।কি সুন্দর সুযোগ, ইসলামিক আলাপ আলোচনার সুযোগও পাচ্ছি। কিছু শিক্ষার অভাব এবং অসচেতনতার কারনে আজ অনেকে এই আইন ভঙ্গ করে, নিয়ম না মেনে বিপদ ডেকে আনছেন।

গত সপ্তাহে তেমনি এক ঘটনা ঘটে গেল লন্ডনের লিমন স্টীটে। জনৈক ভদ্র মহিলা তার বাসায় ইসলামী মাহফিল করার জন্য বেশ কয়েকজন মহিলাকে ইনভাইট করলেন।মনের মতো রান্না বান্না করলেন। বাসায় ১০/১২ জন মহিলা জমায়েত হওয়ার পর প্রতিবেশী কোন একজন স্হানীয় পুলিশে ফোন করে জানিয়ে দেয়।পুলিশ এসে উক্ত মহিলাকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করে। এবং উপস্হিত অন্য মহিলাদের প্রত্যেককে ১ হাজার পাউন্ড জরিমানা করে।

উক্ত মহিলার স্বামী ঐসময় কাজে ছিলেন। বাসায় এসে পুরো ঘটনা শুনে অত্যন্ত মনোক্ষুন্ন হলেন।স্বাভাবিক ভাবেই এত পাউন্ড জরিমানা দেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব না। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কী শুরু হয়।এক পর্যায়ে গৃহকর্তা উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে কাঁচের জগ ছুঁড়ে মারেন। হাসপাতালে যাওয়ার পথে মহিলা মারা যান। স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ স্বামীকে গ্রেফতার করে। বাচ্চারা বর্তমানে কেয়ার টেকারের অধীনে আছেন।

মুহূর্তেই একটা সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেলো।সামান্য ভুলের কারনে যে কারো জীবনেই এইরকম পরিনতি হতে পারে। তাই আসুন সর্তকতা মেনে চলি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.