আমার দিকে ধেয়ে আসল তিন তিনটা বুলেট
প্রথম বুলেট আমার কপালে টুকল,
দ্বিতীয় বুলেট আমার কণ্ঠনালী বরাবর
আর তৃতীয় বুলেট আমার বুকের বা’পাশ ভেদ করে
বেরিয়ে গেলো সীমানা প্রাচীর ছেড়ে।

আমার পোস্টমর্টেম শেষে ডাক্তার ঘোষণা দিল-
আমার কপালে টুকা প্রথম বুলেট
ছিল গণতন্ত্রের মৃত্যু,
দ্বিতীয় বুলেট ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ
তৃতীয় বুলেট ছিল আমার অধিকার চর্চার মিছিলে
প্রশাসনের মারমুখী প্রহসন।

এ ঘোষণাপত্র পাঠ শেষে-
সংবাদ কর্মীরা হাসির ফোয়ারায় গা ভাসিয়ে দিল,
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ডাক্তারকে মদের উন্মাদনায়
রাত না জাগার অনুরোধ জানালো।
আমজনতা হতবিহ্বল হয়ে মৌনতায়
আকাশের দিকে তাকালো,
আর রক্তে কেনা স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলল!

পোস্টমর্টেম সেলে পড়া থাকা আমার পচা লাশের
দুর্গন্ধ বাইরে ছড়িয়ে গেলো-
এ খবর মিডিয়ায় পাড়ায় দারুণভাবে ঝড় তুলল,
এ গন্ধ সহ্য করতে না পেরে রাস্তায় প্রতিবাদ সভা হলো
মিছিলে মিছিলে মুখোশের প্রণয় হলো!
আমার লাশ শ্মশানে না পোড়ে নদীর তীরে পোড়ানোর
দাবী জানিয়ে দেওয়া হলো।

অথচ এ রাষ্ট্রের মগজে-মগজে ধর্ষণের যে বীজ
জন্ম নিল এবং নিচ্ছে,
এই রাষ্ট্রের স্তন চুষে যারা গগনচুম্বী অট্টালিকায়
নর্তকীর ছায়ার তলে মুখ লুকায় এবং লুকাচ্ছে
তারাই এ দাবী জানিয়ে ছিল এবং তারাই জানাবে।

রাষ্ট্র জানবে-আমার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে,
আর ইতিহাস বলবে- আমাকে খুন করা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.