হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা গ্রামে ৬ষ্ট শ্রেণীর ১৪ বছরের এক ছাত্রীর কে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানা সামছুল ইসলাম (মসজিদের ঈমাম)কে মসজিদের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন মসজিদ কমিটি। তবে, রহস্যজনক কারনে তাকে আইনের হাতে তুলে দেননি স্থানীয় মাতব্বরগণ!

বাংলাদেশ II ইকবাল হোসেন তালুকদার, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:

জানা গেছে, ভিকটিম মেয়েটি ঈমামের কাছে আরবি শিক্ষা নিতো। এ সুযোগে ঈমাম ছাত্রীকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন বলে অভিযোগ নির্যাতিতা কিশোরী ধর্ষিতার। ঘটনাটি স্থানীয় লোকমুখে জানাজানি হলে মসজিদের ইমামকে গত শুত্রুবার বিভিন্ন অজুহাতে অব্যাহতি দিলেও মসজিদ কমিটি আইনের হাতে দেয়নি৷

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে৷ মেয়েটির অসহায় দিনমজুর পিতা না পারছেন সহিতে, না পারছেন ধর্ষককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে।

এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ষিতার পিতা বলেন, আমাকে পেটের তাগিদে দিন মজুরের কাজে, নিজ জেলা শহরের বাইরে সব সময়ই থাকতে হয়,তাই এ বিষয়ে এতদিন অবগত ছিলাম না, আজ শুনে রীতিমতো হতবাক৷ রহস্যজনক কারণে এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ মেয়েটির বাবার ৷

ধর্ষক ইমাম শামছুল ইসলাম একই উপজেলার দূর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিগত ৫ বছর ধরে আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা জামে মসজিদের
ইমাম হিসেবে চাকুরিরত।

ভিকটিম কিশোরী জানায়, সে স্থানীয় মাদ্রাসায় ৬ষ্ট শ্রেণীতে শিক্ষারত৷ প্রতিদিন সকালে মসজিদে গ্রামের অন্যান্য শিশু-কিশোরদের সাথে মসজিদের ইমাম সামছুল ইসলামের কাছে আরবি শিক্ষা নিতে যেতো। পড়া শেষে সবাইকে ছুটি দিলেও ইমাম তাকে ছুটি দেননি। ঝাড়ু দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজের অজুহাত দেখিয়ে তিনি ওই কিশোরীকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে যেতেন।

অতঃপর ঘরের দরজা বন্ধ করে ইমাম তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই তার সাথে অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন৷ মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

অবশেষে ওই ইমামের সন্দেহজনক আচরণ এবং মেয়েটিকে প্রতিদিন নিজের কক্ষে আটকে রাখার ঘটনায় মেয়ের পরিবারসহ পাড়া প্রতিবেশীরা ভিকটিমকে জিজ্ঞেস করলে নানা তথ‍্য উঠে আসে।মেয়েটি এসব ঘটনার বর্ণনা দেয়৷

গত ১৬মার্চ একইভাবে স্থানীয় গোপলার বাজারের একটি বাসাতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়৷ এসব কথা কারো কাছে বললে মেরে ফেলা হবে বলেও ছাত্রীকে শাসিয়ে দেন ইমাম। লজ্জার ভয়ে কাউকে না বললেও বাড়িতে এসে তার মা ও প্রতিবেশী এক দাদীর কাছে বিষয়টি খুলে বলে৷ এখবর গ্রামবাসী তথা মসজিদ কমিটির লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে ইমামকে মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের অনেকেই বলেন, শবে বরাতের পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করার কথা রয়েছে। এজন্য মেয়েটির পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়নি৷

এব্যাপারে অভিযুক্ত ইমাম সামছুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মেয়েটিকে কখন ধর্ষণ করেছি, আমার মনে নেই, আমি এসব করিনি, আমার মোতাওয়াল্লী সাহেব সব জানেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ইমাম অসুস্থতার জন্য ছুটিতে গেছেন৷

এসব কথা বলেই মোবাইলের লাইন কেটে মোবাইল ফোনটি বন্ধ দেন। এরপর তার সাথে বারবা চেষ্টা করলেও তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি৷ উক্ত ধর্ষক ইমামকে তড়িৎ গতিতে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান এলাকার সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) ডালিম আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মসজিদ কমিটি ধর্ষককে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে অব্যাহতি দিয়েছেন। তারা দ্বায়বার এড়াতে পারেননা। ভিকটিমের পক্ষ থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.