৭=(০ সংক্রমণের কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে এই নির্দেশ অমান্য করে কিছু অর্থলোভী শিক্ষক প্রাইভেট–বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ II ইকবাল হোসেন তালুকদার, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:

জানা গেছে, শিক্ষকরা ভাড়া করা কক্ষে ব্যাচ করে একই সাথে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসিয়ে টিউশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। এতে উপজেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকির মধ‍্যে রয়েছেন। করোনাভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সরকার যখন দেশের সকল স্কুল কলেজ বন্ধ রেখেছে, তখন দলবদ্ধভাবে কোচিং কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাবকগণ।

মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ, কিন্তু নবীগঞ্জের কোচিং সেন্টার গুলো হাঁটছে ঠিক এর উল্টো দিকে। কিছু অসাধু কোচিং ব‍্যবসায়ীরা সরকারি আদেশের তোয়াক্কা না করেই চুপচাপ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের অবৈধ কোচিং।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত বছরের ১৬ মার্চ সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সকল কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেন দেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এরপর থেকে আজবধি সে নির্দেশ জারি রয়েছে। কোচিং চালুর ব্যাপারে নতুন করে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

দেশে তৃতীয় ধাপে বেড়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। এই সংক্রমণ রোধে মোট ১৮ দফা নির্দেশনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

দেশে তৃতীয় ধাপে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। করোনা সংক্রমণের নতুন উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার কিন্তু তা অমান্য করে আহমেদ ইব্রাহিম নামের একজন শিক্ষক উসমানী রোড, কৃষি ব্যাংকের উপর তলায় এবং বিল্ডিং এর ছাদে করাচ্ছেন স্টার কোচিং, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যাচ করে পড়াশোনা হচ্ছে। রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ থেকে ৫ টা এক ব্যাচ পড়ানো হয় সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখেই চালিয়ে যাচ্ছে তার জমজমাট কোচিং বানিজ্য। এ রকম করে আলাদা আলাদা ব্যাচ ও পড়ানো হচ্ছে প্রতি দিন।

কোচিং সেন্টারগুলোর আশপাশের দোকান ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, করোনাভাইরাসের প্রথম সময়ে কোচিং বন্ধ ছিলো। পরে আস্তে কোচিং স্টার সেন্টারটি খুলেন এই শিক্ষক। করোনা সংক্রমণের মধ্যে কোচিং খোলা থাকলেও এ ব‍্যাপারে প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু থাকায় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। করোনার ঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টারে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালীপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সচেতন মহলে। প্রশাসনের এমন উদাসীনতা উপজেলার সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

কোচিং বাণিজ্য বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কোচিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু তাই নয়, করোনার কারণেও রয়েছে বিশেষ কিছু নিষেধাজ্ঞা। সবকিছুকে অমান্য করে কিছু শিক্ষক এ কার্যক্রম চালু রেখেছেন। যেখানে জীবনের চেয়ে শিক্ষা তথা ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও সরকার একটি শক্ত ভূমিকা নেবে বলে আমরা আশা করছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টার কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও শিক্ষক আহমেদ ইব্রাহিম বলেন, করোনার কারণে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার, তা জানি। ১/২ টি ক্লাস নিয়ে কোচিং বন্ধ করে দিব। কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রাইভেট এবং কোচিং সেন্টারগুলো চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে, প্রাইভেট এবং কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখাই উত্তম হবে।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি কোনভাবেই সহ‍্য করা যাবে না। এ ব্যাপারে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.