হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ প্রেম মানে না জাত বয়স বা ধর্ম। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চারিনাও গ্রামে। মায়ের পরকীয়ার বলি হতে হলো ৬ বছরের শিশু সন্তানের।
নিজের পরকীয়া প্রেমকে টিকিয়ে রাখতে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন মা ও তার পরকীয়া প্রেমিক। পরকীয়া প্রেমের পথের কাটা ৩ সন্তানকে বিষ পানে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল পাষন্ড মা ফাহিমা খাতুন (২৮)। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চারিনাও গ্রামের টমটম চালক সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। পরিকল্পনানুযায়ী পাষন্ড মায়ের বিষ মেশানো জুস পান করে এক শিশু প্রাণ হারায়। ভাগ্যক্রমে প্রানে বেচে যায় ২ শিশু। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে পাষন্ড মা ফাহিমা শিশু হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় গতকাল রাতে ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম। আদালতের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই গ্রামের টমটম চালক সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ফাহিমা তার স্বামীর অভাব অনটনের কারণে প্রাণ কোম্পানীতে চাকরি করতো। ফাহিমার স্বামীর অভাব অনটনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সে পাশের বাড়ির বিত্ত্বশালী আকতারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। তাদের এ অবৈধ সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে তারা দেখে যে তাদের পথের কাটা হচ্ছে ৩ সন্তান। তাই আক্তার ও ফাহিমা মিলে ৩ সন্তানকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনানুযায়ী ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেমিক আকতার বিষ কিনে এনে ফাহিমাকে দেয়। পরের দিন শুক্রবার দুপুরে সেই বিষ ফাহিমা জুসের সাথে মিশিয়ে তার তিন অবুঝ শিশুকে পান করায়। বিষক্রিয়া তারা ছটফট করতে থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে তার ৩য় সন্তান সাথী আক্তার (৬) কে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশু সন্তান তোফাজ্জল ইসলাম (১০) ও রবিউল ইসলাম (৭) কে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে ওই দুই শিশু প্রাণে বেঁচে যায়। এরপর তারা সকলেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে থাকে। এদিকে কিছুদিন যাবার পর আক্তার হোসেন ও ফাহিমার প্রেমের সম্পর্কটি এলাকায় প্রকাশ হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। এতে ফাহিমার স্বামীর সন্দেহ বাড়তে থাকলে সে নিশ্চিত হয় ফাহিমা ও আকতার মিলিতভাবেই তাঁর শিশু সন্তানকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় সিরাজ বাদি হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হলে সদর ওসি মোঃ মাসুক আলী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ নাজমুল হক ফাহিমাকে গ্রেফতার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হক বিজ্ঞ আদালতে ফাহিমাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত ফাহিমার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ফাহিমাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ সে প্রাথমিকভাবে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাঁর দেয়া জবানবন্দি ভিত্তিতে প্রেস ব্রিফিং করে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, সদর মডেল থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ। বা.স-২:৪০এ.এম। পি.কে.সি

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.