ইউরোপ II আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:
বসনিয়া সীমান্তে বাংলাদেশীসহ কয়েকশত অভিবাসী তীব্র তুষারপাত ও প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ বসনিয়ার সীমান্তবর্তী শিবিরে আটকে আছেন তারা।

সীমান্তবর্তী ক্রোয়েশিয়া পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অপেক্ষায় কারো কারো এভাবেই কেটে গেছে পুরো একটি বছর। একে তো নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, তার ওপর প্রচণ্ড শীত। অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরটিও গত মাসে আগুনে পুড়ে গেছে। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে ও অস্থায়ী পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় হয়েছে তাদের।

এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার শরণার্থীদের জন্য ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে পৌঁছাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বসনিয়া হয়ে উঠেছে সীমান্ত পার হওয়ার ‘ট্রানজিট রুট’।

সম্প্রতি ইউরোপের সীমান্ত পার হওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আর জাতিগত দ্বন্দ্বে বিভক্ত দারিদ্র্যপীড়িত বসনিয়া সরকারের এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠার মতো অবস্থা নেই। তাই সেখানে অনেকের জন‍্য ন‍্যুনতম আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও সম্ভব হচ্ছে না।

আফগানিস্তান থেকে আসা ১৬ বছরের আলী, যার আশ্রয়স্থল হয়েছে পরিত্যক্ত একটি বাস; বিহাকের শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়ার পর গত ছয় মাস ধরে ওই বাসেই সে ঘুমায়। সে রয়টার্সকে বলে, “আমার অবস্থা একদম ভালো না। এখানে আমাদের দেখার মতো কেউ নেউ। স্থানটি একেবারেই নিরাপদ নয়।”

সে আরো বলে, “যারা সাহায্য করার অযুহাতে এখানে আসে, তারা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে যায়, এরপর সেগুলো বিহাকের শরণার্থী ক্যাম্পে, নতুবা অন্য কোথাও বিক্রি করে দেয়। এখানে আমাদের আর কিছুই নেই,… দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।”

আফগানিস্তানের নাগরিক শাহবাজ খান বলেন, “জীবন এখানে বড়ই কঠিন।” অন্য একজন বলেন, “অনেকেরই এখানে শীত বস্ত্র নেই, জুতা নেই। আমরা শীতে যে কোন সময় মারা যেতে পারি।”

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তা নাতাশা ওমারোভিক বলেন, “অনেক শরণার্থী প্রচণ্ড শীতে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বসনিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। দৈনন্দিন চাহিদা ও প্রয়োজনীয় খাবারের কোনরকম নিশ্চয়তা নেই তাদের।

উল্লেখ‍্য, গত সপ্তাহে ২৬ কিলোমিটার দূরে লিপা সামার ক্যাম্পে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রায় ৯০০ শরণার্থী এই শীতের মধ্যে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুদিন যাবৎ এই শরণার্থীদের অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছে কিন্তু বসনিয়া কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দেয়নি। বর্তমানে তারা ওই শরণার্থীদের জন্য তাঁবুর ব্যবস্থা করছে।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিহাকের একটি পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় পাওয়া একদল শরণার্থীকে আগুন জ্বালিয়ে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়। বাইরে তুষারপাত হচ্ছিলো অথচ তাদের অনেকের পায়ে ছিলো শুধু প্লাস্টিকের স্লিপার। তাদেরকে ঘুমাতে হয় পরিত্যক্ত ওই ভবনের নোঙরা কংক্রিটের মেঝেতে।

অভিবাসীদের সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবারও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.