দেশে ও প্রবাসে নারী

নারীদের নিয়ে লিখতে গেলে প্রথমেই আজকের পৃথিবীতে সমাজ গঠনে নারীর অবস্থানকে খোঁজে নিতে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না, কারন নারী জীবন সংগ্রামে প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্ম কুশলতার চেতনায় ব্যপকভাবে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেই
সংগ্রাম করে পুরুষদের সাথে তাদের অবস্থান দৃঢ় থেকে সুদৃঢ় করার প্রয়াসকে সফল করে তুলেছে।

অনেকে হয়তো উদাহরণস্বরূপ মহা-মহীয়সী নারীদের নামগুলো তুলে ধরবেন।যেমন প্রীতিলতা, নিবেদিতা, ফ্লোরেন্স, নাইটী ,মাদার টেরেসা, সুলতানা রিজিয়া ও বেগম রোকেয়া সহ হাজারো নারীর অবদান মানুষের অগ্রাভিযানের ইতিহাসে মহীয়ান।

নারী শক্তি আজ বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। নারী আজ শুধু ঘরে বসেই নেই। পুরুষের সাথে কদমে কদম মিলিয়ে চলছে।

কিন্তু আমরা ক’জন প্রবাসী নারীদের কথা জানি! যারা কষ্টে দিনাতিপাত করছে। মা-বাবার আদরের দুলালী যে, পরম স্নেহ ও মমতায় শৈশব , কৈশোর পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, যৌবনের স্বর্ণালী দিনগুলোতে দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দেয় অন্যদেশে!

অন্যদেশ মানেই অন্য ভাষা, অন্য সংস্কৃতি। নিজের দেশ ছেড়ে আমরা অন্যদেশ বা পর দেশে কেন পাড়ি দেই ? কারন, উন্নত শিক্ষা , উন্নত জীবন যাপনের জন্য। তার জন্য আমাদের প্রথমেই আয়ত্ব করতে হবে ভাষা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে।

কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে , তার জন্য আমাদের কষ্ট শিকার করতে হবে। ভাল কিছু অর্জন করতে হলে বিনিময়ে কিছুটা হলেও বিসর্জন দিতে হবে। মনোবল দৃঢ় করতে হবে, ইচ্ছে শক্তি বাড়াতে হবে। নিজেকে তৈরি করার জন্য স্পৃহা থাকতে হবে। কথায় আছে যে, “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।”

উন্নত দেশের উন্নত ব‍্যবস্থার সদ্ব্যবহার করার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। বিংশ শতাব্দী পেরিয়ে এসেও যদি নারীদের করুণ কাহিনী চার দেয়ালে আটকে থাকে, তাহলে এর জন্য দায়ী কে বা কারা?

নিরবে নিভৃতে না কেঁদে নিজের ব্যর্থতার জন্য নিয়তি ও অন্যের উপর দোষারূপ না করে, নিজেকে নিয়ে
ভাবি। একটু সুক্ষ্ণভাবে যদি চিন্তা করি,উত্তর পেয়ে যাবো।

তাই চলুন আগে-নারীরা নিজেকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখি। এখনো সময় আছে। শিখবো, শিক্ষার শেষ নেই।
আমরা একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবো।আমরা- আমাদের যথার্থ মর্যাদা ও মানবিক অধিকার আদায় করতে পারব।

চলবে…….

_কংকা (ইংল্যান্ড প্রবাসী)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.