লন্ডন প্রবাসী জুনেদের সাথে লাইলীর বিয়ে হয় বেশ ধুমধামে কিন্তু আল্লাহর কি লীলা!বিয়ের একসপ্তাহ পাড়ি দিতেই হঠাৎ করে ব্রেইন স্ট্রোকে জুনেদের মৃত্যু ঘটে। আকষ্মিক এই মৃত্যু যেমন জুনেদের মা, ভাই বোনের জন্য কষ্টের, তেমনি কষ্টের লাইলী এবং তার পৃত্রী পরিবারের। হাতের মেহেদীর রঙ না মুছতেই মেয়েটি বিধবা হলো।

লাইলী দেখতে খুব সুন্দরী ছিল। তাই দেবর তমাল ভাবীকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করলো। এদিকে জুনেদের পরিবার রাজি হলেও যেন হচ্ছেন না। আবার তাদের লন্ডন ফেরার সময় চলে আসছে। আরেকবার দেশে যাওয়া,আবার বিয়ের খরচ-পাতি।এদিকে তমালও বিয়ের উপযুক্ত এবং লাইলীকে বিয়ে করার জন্য জেদ ধরেছে।এসব চিন্তা করে অনিচ্ছা সত্বেও অবশেষে বিধবার ইদ্দত পুরতেই, লাইলীর সাথে তমালের বিয়ে দিয়ে দিলেন। লন্ডন আসার বন্দোবস্ত না হওয়া পর্যন্ত লাইলীকে বাবার বাড়ি থাকার সিদ্ধান্ত দিয়ে কয়েক দিন পর তমালের পরিবারের সবাই লন্ডন চলে এলেন।

এক বছরের মধ্যে লাইলীর লন্ডন আসার ব্যবস্হা হয়ে গেলো। লন্ডন এসে শুরু হলো লাইলীর কষ্টের জীবন। তমালদের যৌথ পরিবার। বাবা নেই। মা, বড় ভাই, ভাইয়ের বউ, চার বোন। বড় ভাই বিয়ে করেছে আপন খালাত বোন। তাই তমালের মা সবসময় বড় বউকে ভালো চোখে দেখেন। জোয়ান ছেলে জুনেদের মৃত্যু শোক তিনি ভুলতে পারেননি।তার ধারণা ছেলের আকষ্মিক মৃত্যু লাইলীর জন্যই হয়েছে। আর তাই কথায় কথায় তিনি লাইলীকে অলক্ষ্মী বলে কটুক্তি করেন।এদিকে তমাল যেহেতু লাইলীর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করেছে এবং সে লাইলীকে মনে প্রাণে ভালোবাসে। এই দৃশ্য তমালের মা, ভাই বোন কারো সহ্য হয়না। সুযোগ পেলে সবাই যেকোন অজুহাতে লাইলীর ভুল ধরে।তার মনে আঘাত দিয়ে নানান কথা বলে।লাইলী প্রথম বিদেশ এসেছে। এ দেশে ওর আপন বলতে কেউ নেই। মনের দুঃখ প্রকাশ করতে পারেনা। তমালের কাছেও সব বলতে পারেনা। একেতো লজ্জা, একেতো ভয়। তমালকে সবসময় কাছেও পায়না। শুধু নিরবে অশ্রু ফেলে। পরিবারের সবাই তমালকে লাইলীর কাছ থেকে যতটুকু পারে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। লাইলীর বিরুদ্ধে কান মন্ত্রণা দিয়ে তারা তমালের মন বিষিয়ে তুলে। তমাল এখন প্রায়ই বাহিরে সময় কাটায়। মাঝে মধ্যে হোটেলে অন্য মেয়ে নিয়ে রাত কাটানো তমালের অভ্যাসে পরিণত হলো।

নারী এবং শিশুদের ব্যাপারে বিদেশের আইন অনেক কঠিন। লাইলী চাইলেই আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। কিন্তু সে তো এসবের কিছুই জানেনা। চিনেনা রাস্হা ঘাট। সেই যে এসে গৃহে প্রবেশ করেছে। বাঙালী ললনার মতো হেঁশেলে রন্ধন কার্য আর গৃহ পরিপাটির কাজে নিযুক্ত হয়েছে, এ থেকে কবে পরিত্রান মিলবে তার? লাইলী কি পারবে এতসব বাঁধা অতিক্রম করে তমালকে নিয়ে সুখী হতে? তমালকি ঘরমুখী হবে? শশুর বাড়িতে লাইলী কি পাবে তার ন্যায্য অধিকার?

শাহারা খান
কবি, লেখিকা, গল্পকার
লন্ডন প্রবাসি (বাড়ি-সিলেট)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.