আগামী বুধবার জো বাইডেন আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিবেন, সে হিসেবেই প্রস্তুতি চলছে, শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন না ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনও ছেড়ে যাবেন। ট্রাম্প কন‍্যা ইভাঙ্কা ও জামাতা কুশার নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ‍্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আমেরিকা II আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:


নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথকে ঘিরে ওয়াশিংটনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিরাপত্তাদানের লক্ষ‍্যে মাথাপিছু ১৫ জন করে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

৩ দিন আগে ক্যাপিটল হিলসহ ওয়াশিংটন ডিসির পুরো এলাকা ন্যাশনাল গার্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। মেটাল ও কংক্রিটের কঠিন ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে ক্যাপিটল হিল, হোয়াইট হাউজসহ আশপাশের সমস্ত এলাকায়।

ওয়াশিংটনজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে রোড ও সাব-স্টেশনগুলো। সহিংসতা ঠেকাতে রাস্তায় টহল দিচ্ছেন ন্যাশনাল গার্ডের সশস্ত্র সেনা সদস্যরা।

উক্ত শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন না বলে পূর্বেই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বর্তমানে জানা গেছে, তিনি ওয়াশিংটনও ছেড়ে দেবেন আমেরিকান গণতন্ত্রের এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে।

যদিও হোয়াইট হাউসের কিছু পরামর্শদাতা ট্রাম্পকে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্পের এ ব‍্যাপারে কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক অফিসার।

শপথের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় থাকবেন বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন ছেড়ে যাবেন সকালেই। এর আগের দিন এয়ারফোর্স ওয়ানের বেসে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্পের এই বিষয়গুলির সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র রয়টার্সকে এমন তথ‍্য দিয়েছে।

ট্রাম্প মঙ্গলবারের বিদায়ী অনুষ্ঠান সেড়েই ফ্লোরিডার পাম বিচের উদ্দেশ‍্যে রওনা দিবেন। তাঁর প্রেসিডেন্ট-উত্তর জীবন শুরু করবেন মার-এ-লাগো ক্লাব দিয়ে।

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ট্রাম্প বিতর্কের চুঁড়ায়।
তাঁর অনেক উদ্ভট কীর্তির সাক্ষী হয়েছেন বিশ্ববাসী, এরই সাথে নিন্দিত হয়েছেন বিভিন্ন মহলে। আমেরিকার দীর্ঘ গণতন্ত্রের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যাঁকে দু’বার ইমপিচমেন্টের সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

অপরদিকে, নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কন্যা এবং হোয়াইট হাউজের বিশেষ উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্প, একই সাথে উদ্বিগ্ন জামাতা জারেড কুশনারও।

প্রেসিডেন্ট হয়ে হোয়াইট হাউজে বসার স্বপ্ন ইভাঙ্কার।অন্যদিকে, বিশ্ব রাজনীতিতে একজন শক্তিশালী খেলোয়াড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেন কুশনার। নিজেদের এমন স্বপ্নের কথা তারা নির্দ্বিধায় প্রকাশ্যেই বলে থাকেন।

ইভাঙ্কা ওয়াশিংটনে এসেছিলেন দেশকে কিছু দিতে কারণ দেশ তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তিনি কর্মঠ আমেরিকান পরিবারগুলোকে সাহায্য করার লক্ষ‍্যে নীতিমালা নিয়ে লড়েছেন।

ট্রাম্প কন‍্যা ইভাঙ্কা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন কিছু নীতিমালার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা অনেকের জন‍্য চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে, আমেরিকান শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন করাসহ অভাবে থাকা পরিবারগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছে, এমনকি মহামারির সময় ছোট ব্যবসাগুলোকেও সাহায‍্য করেছে”- বলেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.