গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার নিয়ে, নিত‍্য নতুন রহস‍্যের জ্বাল উন্মোচিত হচ্ছে। ঘটনাটি আত্মহত্যার নাকি হত্যা এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যদিও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ক্রাইম ডেস্ক II আর্লি-স্টার বার্তা কক্ষ:

মুনিয়ার পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যার পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার লক্ষ‍্যে সিলিং ফ্যানের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি অনেক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। শুধু ময়নাতদন্ত রিপোর্টের উপর নির্ভর না করে, তারা পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করছেন। বাসা থেকে ফুটপ্রিন্টসহ সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মুনিয়া আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, বিষয়টি পরিস্কার হতে কিছুটা সময় লাগবে।

মুনিয়া যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতো সেই অ্যাপার্টমেন্টের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুনিয়ার ফ্ল্যাটে ঘটনার দিন কারা গিয়েছিল বা বের হয়েছে তা ভালো করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মুনিয়াসহ সন্দেহভাজনদের কল রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন সায়েম সোবহান ঘটনার মূহুর্তে কোথায় ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার তদন্তে ফরেনসিক পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুনিয়ার মোবাইল ফোনসহ অনেক কিছুই ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। মুনিয়ার ডায়েরির লেখাগুলোও যাচাই করা হচ্ছে।”

মুনিয়ার বাড়ির মালিক জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে মুনিয়া তাঁর বাসায় ভাড়া থাকতেন। তখন তিনি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে পাজেরো গাড়ি নিয়ে যেতে দেখেছেন। তিনি মুনিয়াকে জিজ্ঞেস করলে, মুনিয়া তাঁর স্বামী বলে পরিচয় দেয়।

জানা যায়, মুনিয়ার মৃত্যু রহস্যের সঙ্গে আরও কিছু বিষয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের এক হুইপের ছেলের সাথে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানের মেয়ে ঘটিত বিষয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এছাড়া ৫০ লাখ টাকা নিয়ে আনভীর এবং মুনিয়ার একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় কর্তব‍্যরত পুলিশ গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করলে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে সায়েম সোবহান আনভীর এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে নিহত মুনিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মুনিয়াকে একটি ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন সায়েম সোবহান, যার ভাড়া ছিল এক লাখ টাকা। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতেন।

বাদী ওই বোনের অভিযোগ, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন আনভীর। এরপর ফেসবুকে পোষ্ট করা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। মুনিয়া আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা। এর সুষ্ঠু বিচার চান তারা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.