প্রবাসে এসে যে কয়জন মেয়ের সাথে আমার বন্ধুত্ব হলো,তারমধ্যে মুনার সাথের সম্পর্কটা আমার কাছে বেশি মধুর।ফেইসবুকের সুবাধে ওর সাথে পরিচয়।তারপর একদিন বাসায় ইনভাইট করলাম।প্রথম দেখাতেই ওর মাঝে খুঁজে পেয়েছিলাম,আমার কোন এক ছোট বোনের ছবি। তারপর থেকে প্রায়ই ওর সাথে ফোনে কথা হতো।


মুনা লেখালেখি করে।পাশাপাশি একটা অনলাইন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন।আমি ওর গ্রুপে এড হলাম।যেহেতু আমিও লেখালেখি করি,সেই সুবাধে আমরা একে,অন্যের লেখালেখি নিয়ে আলোচনা করতাম।লন্ডনে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলে,আগে থেকেই যোগাযোগ করে দু’জনে যেতাম।তারপর আরও কয়েকজন কবি সহ মুনা আর আমি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করলাম।


মুনা আমাকে প্রায়ই বলতো,ওর পেটে ব্যথা।কিছু খেতে পারেনা।বমি এসে যায়।ডাক্তারী পরীক্ষা চলছে আপা দুআ করবেন।আমি তো সবসময় ওর জন্য দুআ করতাম।মুনা যেদিন আমাকে জানালো ডাক্তারী পরীক্ষার রির্পোট এসেছে।ওর কিডনী ডেমেইজ।একটা কিডনী পুরোটাই নষ্ট।আরেকটা অল্প কাজ করছে।সেদিন আমি অনেক কেঁদেছিলাম।তারপর ওর অপারেশন হলো।একটা কিডনী কেটে ফেলা হয়েছে।অন্যটাকে সুস্হ রাখতে ডাক্তারে চেকআপ করাতে হয় নিয়মিত।


মুনাকে সবসময় সার্পোট দিয়ে যাচ্ছেন তার স্বামী রাকিব সাহেব।অত্যন্ত বিনয়ী এবং অমায়িক একজন মানুষ।ওর ছেলেমেয়েরাও সবসময় মায়ের প্রতি যত্নশীল।
মুনা একজন চাইল্ড মাইন্ডার।পাশাপাশি একটা চ্যারেটি সংস্হায় কাজ করে।অবসরে বাগান করে।লেখালেখি করে।প্রকৃতির গাছপালা,পাখি,আকাশ,সাগর এসবের সৌন্দর্য্য মুনাকে বিমোহিত করে।অসুখে ভেঙে না পড়ে,মুনা নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায় বহুমুখী কাজে।
মুনার মনটা খুব নরম।অন্যের দুঃখে ওর অন্তর কেঁদে উঠে।প্রতিবেশীর বিপদে ছুটে যায়।একমাত্র ছেলে চায়নিজ একটি মেয়েকে পছন্দ করে বিয়ে করলে,মুনা ছেলের পছন্দ কে অবজ্ঞা না করে,মেনে নিয়েছে।এবং সেই মেয়েকে মুসলিম করিয়ে,কি যে মহত কাজ করেছে,আমি তো অবাক হয়ে যাই।মাঝে,মাঝে ফোন করলে শুনি,বউয়ের সাথে কি সুন্দর চলছে ওর সংসার।শাশুড়ী যখন বউয়ের তারিফ করে,বুঝতেই হবে শাশুড়ীও ভালো।


মুনার কাছ থেকে শিক্ষা নিলাম জীবন যুদ্ধে ভেঙে পড়লে চলবে না।ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।মৃত্যু তো সবার জন্য অবধারিত।কেউ আগে,কেউ পরে এর স্বাদ গ্রহন করবেই।তাই বলে টাইমের আগে কেন নিরাশ হবো?মনোবল শক্ত রাখতে হবে।নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে কোন না কোন কাজে।আর যখন,যে অবস্হায় থাকি না কেন,ভালো কাজ করা উচিত।কারন মৃত্যুর পর এই ভালো কাজগুলি আপনাকে মানুষের অন্তরে অমর করে রাখবে।আর আল্লাহর কাছে তো তার পুরষ্কার আছেই। মুনারা সুস্হ দেহে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুক।এই কামনা করি।

শাহারা খান
কবি, লেখিকা
লন্ডন প্রবাসী (বাড়ি সিলেট)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.