ইতিহাসের একটি বিখ্যাত প্রবাদ বাক্য “রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল” লোকমুখে অনেকেই কথায় কথায় বিভিন্ন উপমা টেনে এই বাক্যটি বলে থাকেন।

কিন্তু অনেকেই জানেন না নিরো কে? কি তার পরিচয়? কিভাবে তিনি পুরো রোমান সাম্রাজ্যের রাজা হলেন? আর কিভাবে তিনি সাম্রাজ্য হারালেন? চলুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক:

ধারাবাহিক (পর্ব:-০১)

নিরো হচ্ছেন রোমান সাম্রাজ্যের ৫ম সম্রাট। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, রোমান সম্রাটদের মধ্যে সবচেয়ে অজনপ্রিয় সম্রাট ছিলেন নিরো। তিনি ১৫ই ডিসেম্বর ৩৭ খ্রিস্টাব্দে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন।

জন্মের সময় তার নাম রাখা হয় লুসিয়াস ডোমিতিয়াস আহেনোবারবাস। এছাড়া যখন রাজ্যে অভিষেক হয়, তখন তার নাম হয় ‘নিরো ক্লডিয়াস সিজার দ্রুসাস জার্মানিকাস’, এবং সম্রাট থাকাকালীন সময়ে তার নাম ‘নিরো ক্লডিয়াস সিজার অগাস্টাস জার্মানিকাস’।

এছাড়াও তার সম্রাজ্যে তাকে চিনতে “ইম্পারেটর নিরো ক্লডিয়াস দিভি ক্লদিয়াস ফিলিয়াস অগাস্টাস জার্মানিকাস” নামে।

খ্রিষ্টাব্দ ৫৪ থেকে ৬৮ সময়কালে রোমান সাম্রাজ্যের পঞ্চম এবং জুলিও-ক্লডিয়ান রাজতন্ত্রের সর্বশেষ রোমান সম্রাট ছিলেন নিরো। তার সম্রাট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার মা এর। নিরোর মা ছিলেন ক্ষমতালোভী।

তখন রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট তার চাচা ক্লাডিয়াস।নিরোর মা এগ্রিপিনা, তার চাচা সম্রাট ক্লডিয়াসকে বিয়ে করেন। তবে কিছু কিছু ইতিহাসে পাওয়া যায়, সম্রাট ক্লাডিয়াস নিরোকে দত্তক সন্তান হিসেবে নেন।

নিরোর মা ছিলেন খুব চালাক এবং বুদ্ধিমতী। ক্ষমতার জন্য নিরুকে তার চাচাতো বোনের সাথে বিয়ে দেন, কারণ পরিবারের ভিতরে নিরোর ক্ষমতাকে আরো পাকাপোক্ত করা ছিল তার লক্ষ্য। সে মোতাবেক নিরোর মা এগ্রিপিনা পরিকল্পনা করেন নীরোর চাচা ক্লাডিয়াস বা সম্রাট কে হত্যা করার।

নিরোর মা এগ্রিপিনা সম্রাট ক্লডিয়াসকে এক প্লেট বিষাক্ত মাশরুম খেতে দেন। বিষাক্ত মাশরুম খেয়ে সম্রাট ক্লাডিয়াস মৃত্যুবরণ করেন। ফলে পরবর্তীতে নিরো মা বুদ্ধি করে নিরোর চাচাতো ভাইকে সরিয়ে পরবর্তী সম্রাট হিসেবে নিরোকে সিংহাসন এ বসান।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিরো রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হন। তখন ৬৪ খ্রিস্টাব্দ চলছিল। নিরো নাবালক হওয়ায় অনেক সিদ্ধান্তই তার মা পরোক্ষভাবে নিয়ে থাকতেন। সেই অনুযায়ী তার মা তার প্রধান উপদেষ্টা ও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।

নিরো অনেক ক্ষেত্রে ছিলেন উদাসীন। কিন্তু নাবালক নিরোর অনেক কাজের মধ্যেই তার মা বাধা দিতেন এবং হস্তক্ষেপ করতেন। যার ফলে তিনি নিরোর চোখে এক সময় বিষাক্ত হয়ে উঠেন। তিনি নিজেকে আরও স্বাধীন ভাবে উপভোগ করতে চাইতেন।

তিনি প্রতিটা কাজ এবং চিন্তাভাবনায় স্বাধীনতা চাইতেন। তার জন্য তিনি আরও ক্ষমতালোভী ও স্বাধীনতাকামী হয়ে উঠেন। ফলে এক সময় নিজের মাকে হত্যা করার চিন্তা করেন।

এর জন্য তিনি খুব গোপনীয়তার সাথে এক পরিকল্পনা হাতে নেন। নিরো সমুদ্র তীরে একটি পার্টির আয়োজন করেন। তারপর সেখানে তার মাকে আমন্ত্রণ জানান………..

বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে….

আলামিন সিকদার ইরাজ
লেখক, কবি, কলামিস্ট এবং
স্টাফ রিপোর্টার, আর্লি-স্টার
রোম, ইতালি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.