কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও সিঙ্গাপুরে যেতে আগ্রহী আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সেসব দেশে গমণের জন্য আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে বিশেষ ফ্লাইট চালু হচ্ছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রণায়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ II আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:

ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাংলাদেশি অন্যান্য এয়ারলাইন্সসহ উল্লেখিত দেশসমুহের ন্যাশনাল ক্যারিয়ারসহ অন্যান্য ক্যারিয়ার বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।

বৃহষ্পতিবার সন্ধায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার সভাপতিত্ব করেন ড.এ.কে.আব্দুল মোমেন (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)

উক্ত ৫টি দেশে যেতে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে যাদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স রয়েছে, এক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যাদের ভিজিট ভিসা রয়েছে এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নেই, তারা সেসব দেশে গমণে অগ্রাধিকার পাবেন না। যারা কর্মের উদ্দেশ্যে ভিজিট ভিসা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত যেতে আগ্রহী, তারা বিএমইটি’র ছাড়পত্র নিয়ে যেতে পারবেন।

গত তিন দিন যাবত যেসব যাত্রীরা টিকেট কেনা সত্ত্বেও লকডাউনের কারণে আটকা পড়েছেন, তাদেরকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা উল্লেখিত দেশগুলোর ন্যাশনাল ক্যারিয়ারের অতিরিক্ত বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে সে দেশে পাঠানো হবে।

সম্প্রতি যেসকল যাত্রীরা চট্টগ্রাম থেকে ভ্রমণ করার উদ্দেশ‍্যে টিকেট ক্রয় করেছেন, তাদেরকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকায় আনা যাবে।

টিকেটের মূল্য সহনীয় রাখতে যাত্রী পরিবহনের জন্য পরিচালিত বিশেষ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং চার্জ সাধারণ ফ্লাইট চার্জের সমপরিমাণ হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী যাত্রীদের পিসিআর টেস্ট সহজ ও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে ফলাফল প্রদান করা হবে।

যারা জরুরি প্রয়োজনে লকডাউন চলাকালে যারা উক্ত ৫টি দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে ভ্রমণে আগ্রহী, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র সাপেক্ষে ট্রানজিট-প্যাসেঞ্জার হিসেবে বিশেষ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবেন।

উক্ত ৫টি দেশে ভ্রমণকালে সকল যাত্রীদেরকে এয়ারপোর্টে আসার পথে পাসপোর্ট, ভ্যালিড ভিসা, বিমানের টিকিট, বিএমইটি কার্ড কিংবা নিরাপত্তা এজেন্সি কর্তৃক ইস্যুকৃত পাস সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে ডকুমেন্টধারী যাত্রীদের অভ্যন্তরীণ চলাচলে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা জরুরি প্রয়োজনে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মেনে দেশে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক যাত্রীকে অবশ‍্যই কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমুহ। দেশে ফেরত প্রবাসী যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোরেন্টাইন নিশ্চিতের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ দিয়াবাড়ি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে যথার্থ প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে বলে জানানো হয়। ৫টি দেশ থেকে দেশে ফেরত যাত্রীদেরকে বোর্ডিং এর পূর্বেই কোয়ারান্টাইনের জন্য নির্দিষ্ট হোটেলে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে।

কাতার ও ওমানে ক্রমহ্রাসমান করোনা সংক্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিষিদ্ধ দেশগুলোর তালিকা থেকে উক্ত দু’টি দেশকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে দেশে গমণেচ্ছু প্রবাসী কর্মীদের লকডাউন চলাকালে দেশে ফেরার ব‍্যাপারে নিরুৎসাহ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বাংলাদেশ মিশনের ওয়েব সাইট, নিউজ পোর্টাল ইত্যাদি ব্যবহারসহ কমিউনিটি নেতাদের সহযোগিতা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সংযুক্ত ছিলেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.