মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার সময় এটা জেনে-বুঝেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন যে, তাঁরা হয়তো আর জীবিত ফিরতে পারবেন না, তাঁরা হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে মারাও যেতে পারেন। জীবনের তোয়াক্কা না করে, মৃত্যু হাতের মুঠোয় নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেন। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা- বোনের সম্ভ্রমের মূল্যে আমরা পেয়েছি অমূল্য এই স্বাধীনতা। অনেক কষ্ট, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।

মুক্তিযোদ্ধারা কেমন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে স্বপ্নের দেশের জন্য তাঁরা হাসতে হাসতে জীবন দিয়ে দিলেন? পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ভাবে বৈষম্যহীন, শোষণহীন, শ্রেনী-বিভেদ মুক্ত, স্বাধীন একটি দেশ যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন গুলো লেখা আছে বাংলাদেশের সংবিধানে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সেই স্বপ্নের দেশ কেমন হবে, সেটিই রক্তের অক্ষরে লেখা আছে বাংলাদেশের সংবিধানে। সম্পূর্ণ সংবিধান সর্ব সাধারনের জন্য পড়া ও জানা বাধ্যতামূলক না হলেও- সংবিধানের প্রস্তাবনার অংশটুকু একজন সচেতন, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে জীবনে একবারের জন্য হলেও আমাদের পড়া উচিৎ, জানা উচিৎ, হৃদয় দিয়ে অনুভব করা এবং অনুধাবন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

যারা এই লেখাটি পড়ছেন তাদের সবার জন্য মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

__মোস্তাফিজুর রাহমান
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইতালি এবং
ডিপার্টমেন্ট অব ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি অব রোম- এ অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.