২০১৮ সালের ফেব্রুুয়ারীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক ভ্যালিতে এক অসাধারণ ট্রিপ ছিল। সফরটি ছিলো আমার সাবেক অফিস ডেলকটের সহকর্মী ও তাদের পরিবার নিয়ে । সে স্মৃতিগুলো আজও খুব আনন্দ দেয়।

ঢাকার ফকিরাপুল থেকে সেন্টমার্টিন ট্র‍্যাভেলস এ রাত ১০ টায় রওয়ানা দিয়েছিলাম খাগড়াঠঠছড়ির উদ্দ্যেশে। ডেভিড ভাই, কামরুল ভাই, মনির ভাই, সঞ্জিব দা, এনামুল ও আমার পরিবার মিলে গিয়েছিলাম সেই চ্চচ্চ সিংগেল গিয়েছিলো অরুন, তুষার ও এনামুলের ছোট ভাই (এই মুহূর্তে নাম মনে নেই)। সকাল ৭ টা নাগাদ আমরা পৌছে যাই খাগড়াছড়ি শহরে।

তারপর সবাই ফ্রেশ হয়ে নাশতা সেরে আগে থেকে রিজার্ভ করা চান্দের গাড়িতে সাজেক এর পথে আমরা। জানিয়ে রাখা ভালো খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালি একদিন একরাত ঘুরিয়ে আনার প্যাকেজে আমরা গাড়ি নিয়ে ছিলাম। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের দু’টি গাড়ি। সবুজের যেনো এক স্বর্গ দেখতে দেখতে এগিয়ে চলছি আমরা।

পিচঢালা পথ বেয়ে যাচ্ছি আর দেখতে পাচ্ছি পাহাড়ি সুন্দর সুন্দর গাছপালা, আদিবাসীদের ঘরবাড়ি। চলার পঠে আমরা দেখে নিলাম রিসাং ঝর্না, হাজাছড়া ঝর্না। তবে আলুটিলা গুহায় যাওয়া হয়নি সময়ের অভাবে।

এরপর সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করে তাদের এস্করটে আমরা চলছি। আমরা এখন সাজেকের বেশ কাছেই। তবে সামনে অনেক খাড়া পাহাড়। তাই গাড়ি একটি ছোট ব্রিজের কাছে এসে থামলো। এখানে নাকি কিছুক্ষন বিরতি দিয়ে আবার যাত্রা শুরু করবে। ওখানে আমরা পেয়ে গেলাম পাহাড়ি পাকা পেঁপে ও কলা।

তারপর আমরা সাজেক পাহাড়ে উঠার জন্য উপরে উঠতে থাকলাম। গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে তারপর উচু পাহাড়ে উঠলাম আমরা। হ্যাঁ আমরা এখন পৌছে গেলাম রাংগামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ট্যুরিস্ট স্পট সাজেক ভ্যালিতে। কি ছিমছাম সুন্দর পাহাড়ি মফস্বল শহর সাজেক।

আমরা এবার উঠে গেলাম আগে থেকে বুকিং করে রাখা জুমঘর রিসোর্ট এ। বাশ ও ছনপাতা দিয়ে বানানো একেকটি ঘর ছিলো আমাদের জন্য। একটি ঘর থেকে আরেকটি ঘরের দূরত্ব ছিলো ১০-১২ ফুট। ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চের জন্য আমরা গেলাম রুইলুই পাড়ায় মারুতি হোটেলে। আমরা খেলাম সাদা ভাত, আলু ভর্তা, মিক্সড সব্জী, পাহাড়ি মুরগির কারি। খুবই টেস্টি খাবার তাই আমরা রাতের জন্য খাবার অর্ডার দিয়ে গেলাম চিকেন বার-ব-কিউ ও পরোটা।

এরপর রিসোর্ট এ কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে ঘুরে এলাম কংলাক পাড়া ও হ্যালিপেডে। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সবচেয়ে উচু স্থান। ওখানে উঠতে হলে দুই হাতে বাঁশের লাঠির সাহায্যে উঠতে হয়। আর ওখানে আদিবাসী শিশুরা দাঁড়িয়ে থাকে বাঁশ ভাড়া দেয়ার জন্য। বিনিময়ে ১০/২০ টাকা পায় তারা।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। আমরা এখন হ্যালিপেডে, পাশেই সেনা বাহিনীর নিজস্ব রিসোর্ট। বাচ্চারা বেশ আনন্দ করলো সেখানে। ফটোসেশন শেষে আমরা আবার রুমে চলে এলাম। কিছুটা সময় পর চলে গেলাম মারুতি দিদির হোটেলে। সেখানে চিকেন বার-বি-কিউ রেডি হচ্ছিলো আমাদের জন্য। শীতের রাতে খোলা জায়গায় কয়লার আগুনে বানানো হচ্ছে চিকেন বার-বি-কিউ। আমরা অপেক্ষায় আছি কখন রান্না হবে।

তারপর সবাই মিলে আনন্দ করে খেয়ে রুমে চলে এলাম। সাজেক তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যায়। কারণ ওখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। বিকল্পভাবে সামান্য পরিমান আলোর ব্যবস্থা ছিলো সাময়িক সময়ের জন্য। তাই আমরা অল্প রাতেই ঘুমিয়ে গেলাম। আর অপেক্ষায় থাকলাম সকালের মেঘ দেখার।

ঘুম ভাঙলো কামরুল ভাইয়ের ডাকে। আমাদের রুমের বাড়ান্দা থেকে মেঘের ভেলা দেখতে পেলাম। পরে ডেভিড ভাই, সঞ্জীব দা ও অরুন মিলে আমরা সাজেক ঘুরছি হেটে হেটে। কি অনিন্দ্য সুন্দর ছবির মতো সাজেক ভ্যালি। পাহাড় আর মেঘ এসে মিলে একাকার যেনো। যেনো সবুজ পাহাড় ও শুভ্র মেঘের রঙ তুলিতে আঁকা কোন ছবি।

এরপর সবাই মিলে মারুতি দিদির হোটেলেই খেলাম সকালের নাশতা। এবারের আয়োজন পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী ব্যাম্বু চিকেন দিয়ে খিচুড়ি। কি দারুন সে খাবার। আহা! এরপর সাজেকের পাহাড়ি বাজার ঘুরে ঘুরে দেখলাম সবাই মিলে। এবার বিদায়ের পালা। মাত্র এক দিনেই যেনো আপন হয়ে গিয়েছিলো এই পাহাড়টা।

সবাই খুব আলোচনা করছিলো, আরেক দিন যদি থাকা যেতো! আবার একই পথে যাত্রা করলাম ফেরার উদ্দেশ্যে। পড়ে রইলো কিছু ভালোলাগা স্মৃতি, আড্ডা আর গান। তবে সাজেক আবার যাবো। সময় পেলেই হারাবো ঐ পাহাড়ের বুকে।

অলিউর রহমান খান
কবি, লেখক

Spread the love

১ Comment

  1. We absolutely love your blog and find almost all of your post’s to be exactly what I’m
    looking for. Would you offer guest writers to write content available for you?
    I wouldn’t mind creating a post or elaborating on a number of the subjects you write regarding here.

    Again, awesome web site!

    delta 8 carts Area 52 – delta 8 carts Area 52

    delta 8 carts Area 52 – buy delta 8 THC area 52

    delta 8 THC area 52 – delta 8 area 52

    delta 8 area 52 – delta 8 THC area 52

    Area 52 delta 8 carts – buy delta 8 THC area 52

Leave a Reply

Your email address will not be published.