দেশে ও প্রবাসে নারী II
ছেলেটার নাম সজল। ষ্টুডেন্ট লাইফ থেকে জীবিকার উদ্দেশ্যে বিদেশ পাড়ি দেয়। প্রথমে মিডিলইস্ট। তারপর কয়েক বছর পর ইউরোপ।

মা, বাবা বেঁচে নেই। তিন বোন আর দুই ভাইয়ের সংসার।সজল সবার ছোট। ছাত্র অবস্হায় কয়েক বছরের ব্যবধানে বাবা, মা দু’জন মারা যান। মাত্র কয়েক বছর বড় ভাই বিদেশে ছিলেন।

বাবার মৃত্যুর পর অভিভাবকের দায়িত্ব নিতে বড় ভাই দেশে চলে যান। সজল তখন আই,এ পাশ করে ডিগ্রি ক্লাসে ভর্তির প্রস্তুতি নিবে। এমতাবস্হায় বড় ভাই দেশে চলে এলে, সংসারে আয়ের জোগান দিতে সজল বিদেশের পথে পা বাড়ায়।

তারপর থেকে ছোট হয়েও সংসারের সব দায়িত্ব সজলের গাড়ে। তিন বোনের বিয়ের খরচ, বড় ভাই তার বাচ্চাদের লেখাপড়া, সংসারের যাবতীয় খরচ সব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে এতটুকু ত্রুটি করেনি।

একবার দেশে এসে সবার মতামতে সজল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো। বউ সরকারী স্কুলের শিক্ষিকা। নিজের হাত খরচ নিজেই চালিয়ে নেয়। তাই এ নিয়ে সজলের ভাবার দরকার নেই। বিয়ের মাস দুয়েক পর সজল ইতালি চলে আসে। প্রতিমাসে ভাইয়ের নামে সংসার খরচের টাকা নিয়মিত পাঠায়।

প্রভু ভক্ত কুত্তা যেরকম মনিবের জন্য ভক্ত থাকে, সজলও তেমনি ছিল ভাই ভাবীর ভক্ত। তার বউকে ভাই ভাবী চাকরানীর মতো রাখতো। নিজস্ব কোন অধিকার শশুর বাড়িতে তার ছিলোনা। এমনকি বিয়ের পর সজল দেশে আসলেও ভাই ভাবীর অনুমতি ছাড়া বউকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যেতে পারতো না।

লিজা যতই ভালো চলুক না কেন, আড়ালে, আবডালে তারা লিজার বিরুদ্ধে বলে, লিজার উপর সজলের মন সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতো। লিজা ছিলো অত্যন্ত ধার্মিক এবং ধৈর্যশীলা।

সজলের কাছে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ সে করতো না। আর করলেও সায় পাবেনা লিজা তা জানতো। তাই আল্লাহর কাছে নিরবে কান্না করা ছাড়া লিজার কিছুই করার ছিলোনা।

সজল চাইলে লিজাকে অনেক আগে ইতালি আনতে পারতো। কিন্তু ঐ যে প্রভু ভক্ত কুত্তা। ভাই ভাবীর নিষেধ।বউকে এখন বিদেশ নেয়ার দরকার নেই। কারণ ওরা বুঝেছিলো, বউকে বিদেশ নিয়ে গেলে, দেশে টাকা পাঠানোর পরিমান কমে যাবে।

বউয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলে, পরিবারের সবার প্রতি দায়িত্বহীন হয়ে পড়বে সজল। স্বার্থপর ভাই, একবারও ভাবলো না, যে ভাই ষ্টুডেন্ট লাইফ থেকে পরিবারের ঘানি টানছে। তারও তো সুখের দরকার। তার ও তো ভবিষ্য‍ৎ আছে।

কথায় বলে রাখে খোদা মারে কে? হয়তো কয়েক বছর আগে আসার কথা ছিলো। কয়েক বছর পর লিজা ইতালি এলো। স্বামী সন্তান নিয়ে লিজা এখন বেশ সুখে আছে,স্বাধীন আছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে আজ সে মুক্ত। স্বার্থপর ভাসুর-ঝা বহাল তবিয়তে দেশে আছেন।

শাহারা খান
কবি, লেখিকা
ইংল‍্যান্ড প্রবাসী (বাড়ি-সিলেট)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.