পাবেল খান চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র মিজান বলেন, ২০১৯ সালের ২৪ জুন উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আমি ১৪ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করি।
দায়িত্বগ্রহণের পরপরই পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জলাবদ্বতা দূরীকরণ, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পানি সরবরাহ, বিদ্যুত, স্বাস্থ্যসেবা ও মশক নিধনসহ বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পাদন করি। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিগত একটি বছর পৌরবাসীকে সেবা দিতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। শহরের বিভিন্ন অলিগলির রাস্তা অল্প সময়ে পাকাকরণ ও সংস্কার করেছি।

মেয়র বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা না করে জনগণের স্বার্থে হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শহরবাসীর জলাবদ্বতা নিরসনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করি। আমার দেড় বছর মেয়াদের শেষ মূহুর্তে শহরের প্রধান সড়কের সৌন্দর্যের জন্য মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, ফোয়ারা ও ডিভাইডাটারগুলোকে মনোরম করে গড়ে তুলেছি।
আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরবাসীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, পৌরসভার উন্নয়ন কাজ বাধাঁগ্রস্থ ও আমাকে সমালোচিত করতে গত ৭ অক্টোবর সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিকদের একটি সংগঠন শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে আমার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। অথচ আমি সিএনজি অটোরিকশা মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের সাথে কোনভাবেই জড়িত নই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালিয়েছে এবং স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়াগুলোতে আমার বক্তব্য না নিয়েই সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাবিব নামে যে ব্যক্তিকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে শ্লোগান ও অভিযোগ আনা হয়, তিনি মূলত হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মোতাচ্ছিরুল ইসলামের নিয়োগপ্রাপ্ত লোক। হবিগঞ্জ পৌরসভার উমেদনগর এলাকায় প্রধান সড়কের উপর স্ট্যান্ডটিসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা স্ট্যান্ডগুলো অন্যত্র সরাতে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সুপারিশ করেছি। কারণ এসব স্ট্যান্ডের কারনে পৌরবাসীর চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি ও শহরে যানজট সৃষ্টি হয়।

মেয়র আরও বলেন, পৌরসভার অন্যান্য মেয়ররা ৫ বছরের জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন কিন্তু আমি মাত্র দেড় বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়ে এই চ্যালেঞ্জ নেই। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর পৌরবাসীর সেবায় নিয়োজিত থেকে পৌরবাসীর দাবির ৮০% কাজ সম্পাদন করেছি। শহরকে পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি সপ্তাহে সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আমি নিজেই কাজ করে যাচ্ছি। আর এসব উন্নয়নমূলক কাজে ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.