মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কালিয়াকৈর উপজেলা হল রুমে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিনের সভাপতিত্ব চিত্রাংকন, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ II মো: আফসার খাঁন বিপুল, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি:

এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন ১৯৪৮ সালে তরুণ নেতা শেখ-মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিল পাকিস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তারা যে পাকিস্তান বানাইলেন সেই পাকিস্তানে ইংরেজ শাসন, ইংরেজ প্রমোদের পরিবর্তে পাঞ্জাবি শাসক তারা পেয়েছেন। বাংলার মানুষের এতে মুক্তি আসবে না, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষা করা হবে না।

তাই ১৯৪৮ সালের চৌঠা জানুয়ারী এই তরুন যুবক বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৮সালে চৌঠা জানুয়ারী ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৯৪৮সালে রাষ্ট্র ভাষার রক্ষার জন্য অনেক কমিটি হয়েছিল, সভা হয়েছিল। ১৯৪৮সালে ১১-ই মার্চ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম তিনিই গ্রেপ্তার হয়েছিল।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। তবে তালিকা সারা বাংলাদেশ ভিত্তিক নেই। যা আছে তা ২৬মার্চে ভাষা আন্দোলনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সে তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, মায়ের ভাষা, বাংলা ভাষা মর্যাদা রক্ষা করার জন্য, ও স্বৃকিতীর জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত, শফিকসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

মন্ত্রী ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনের সূচনা করেছিল আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ-মুজিব। ব্রিটিশ আমলে ১৯৪৬ সালে এদেশে একটি নির্বাচন হয়েছিল প্রশ্ন ছিল যে, ভারত অভিবিভক্ত থাকবে , না এক বা একাধিক রাষ্ট্র হবে। কংগ্রেসের দাবী ছিল এক ভারত, ভারতকে ভাগ করা যাবে না। মুসলিম লীগের দাবী ছিল ভারতকে ভাগ করে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাস ভূমি তৈরী করতে হবে।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন তখন বাংলার মূল নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ে তার শীষ্য ও ইসলামীয়া কলেজের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত জি.এস শেখ-মুজিবুর রহমান। তখন সারা বাংলাদেশে, আসামের পর সমস্ত অঞ্চলের পাকিস্তানের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছিলেন এবং পাকিস্তানের পক্ষে ১৯৪৬ সালে সেই গণভোটে ভোট আদায় করেছিলেন।

পাকিস্তান তাদের ৪টা প্রদেশ ছিল। বেলুচিস্থান, পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ। মাত্র সিন্ধু প্রদেশে এক ভোটের ব্যবধানে মুসলিমলীগ জয় লাভ করেন। বাকি তিনটি প্রদেশ-ই কংগ্রেস সরকার গঠন করেছিল। অথাৎ তারা বলে ছিল পাকিস্তানের দরকার নাই। সেইদিন ৪টি প্রদেশের ৪৬% ভোটের ভাষাকে তারা মাতৃভাষা করতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের ভোটে এই অঞ্চলের মানুষের ভোটে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছে।

সেদিন ৫৬% ভোট ছিল বাংলা ভাষার আর ৪৬% ভোট ছিল পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের ভাষা। সেইদিন তরুণ নেতা শেখ-মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিল পাকিস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তারা যে পাকিস্তান বানাইলেন সেই পাকিস্তানে ইংরেজ শাসন ইংরেজ প্রমোদের পরিবর্তে পাঞ্জাবি শাসক তারা পেয়েছেন। বাংলার মানুষের এতে মুক্তি আসবে না, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষা করা হবে না।

তাই ১৯৪৮ সালের চৌঠা জানুয়ারী এই তরুন যুবক বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৮সালে চৌঠা জানুয়ারী ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র ভাষার রক্ষার জন্য অনেক কমিটি হয়েছিল, সভা হয়েছিল। ১৯৪৮সালে ১১-ই মার্চ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম তিনিই গ্রেপ্তার হয়েছিল।


উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুরাদ কবির, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আজাদ, কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সরকার মোশারফ হোসেন জয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার সাহাবুদ্দিনসহ আরো অনেকে। পরে শহীদ স্মৃতির উপর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অংশ গ্রহণকারী ১৮জনের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.