বুধবার প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ব্রিটিশ সংবাদপত্র
দ‍্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, “ইইউ সদস্য দেশগুলি মহামারী চলাকালীন সময়ে সীমান্ত থেকে কমপক্ষে ৪০,০০০ আশ্রয়প্রার্থীকে ফিরিয়ে দিতে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।” যার ফলে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

অভিবাসী II আর্লি-স্টার অনলাইন ডেস্ক:

পত্রিকাটির মতে, ইইউয়ের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স নিয়মিতভাবে অবৈধ কৌশল অবলম্বন করে শিশুসহ কয়েক হাজার শরণার্থীর সাথে সহিংসতা ও অমানবিক আচরণের পর তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

দ‍্য গার্ডিয়ান বেসরকারী সংস্থাগুলি থেকে সংগৃহীত ঘটনার একটি ডাটাবেসসহ জাতিসংঘে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রিপোর্টটি তৈরি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিতে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে হয়রানি, অসদাচরণ এবং বেআইনী অভিযানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় জালিয়াতি বিরোধী অফিস (ওএলএফ) ফ্রন্টেক্স এর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু করেছে।

দ‍্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে স্থল বা সমুদ্রপথে ইউরোপে আগত অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ১০০,০০০ এ নেমেছে, ২০১৯ সালে এর সংখ‍্যা ছিল প্রায় ১৩০,০০০ এবং ২০১৭ সালে ১৯০,০০০।

সংখ্যায় কমে যাওয়ার পরেও ইতালি, মাল্টা, গ্রীস, ক্রোয়েশিয়া এবং স্পেনসহ বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ গত বছরের জানুয়ারি থেকে অভিবাসন নীতি কঠোর করে চলেছে।

করোনা মহামারীর সংক্রমণ এড়াতে সীমান্ত বন্ধ করায় পুশব্যাক অনুশীলনের প্রসার ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ মে) বর্ডার ভায়োলেন্স মনিটরিং নেটওয়ার্কের (বিভিএমএন) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তে অবৈধ প্রত্যাবর্তনের সাথে সম্পর্কিত ৯০% মামলায় সহিংসতা ও শারীরিক নির্যাতন সম্পর্কিত ঘটনার বা‍ৎসরিক রিপোর্ট তৈরি করেছে। সংগৃহীত ডেটা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ এ নির্যাতনের পরিমাণ ১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্রীসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা:

গ্রীক টহল নৌকাগুলো অভিবাসীদেরকে তুরস্কের সীমান্তে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং খাবার, পানি, লাইফজ্যাকেট বা কোন রকম সাহায্য ছাড়াই তাদেরকে সমুদ্রে ছেড়ে দিয়েছে বলে ২০২০ সালের অক্টোবরে এনজিও’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় এবং উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। গ্রীক অভিবাসন মন্ত্রী এই দাবিকে “ফেক নিউজ” বলে অস্বীকার করেছেন।

এপ্রিল মাসে, এনজিও লিগ্যাল সেন্টার লেসভোস সমুদ্রের অবৈধ ধাক্কার মাধ‍্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘণ হয়েছে বলে দাবি করে ইউরোপীয় আদালতে গ্রীস এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।

মধ্য ভূমধ্যসাগরে, লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাত্রাকালে অভিবাসীদের বারবার উপকূলরক্ষীরা বাধা দিয়ে উত্তর আফ্রিকার দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান কর্তৃক উদ্ধৃত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, প্রায় ১৫,৫০০ শরণার্থীকে সমুদ্রপথে বাধা দিয়ে ইইউ সমর্থিত লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা তাদেরকে ত্রিপোলিতে ফিরিয়ে নিয়েছে।

উল্লেখ‍্য, ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডি এবং সঙ্কটে নৌকাগুলি উদ্ধারে ব্যর্থতার জন্য ইতালি ও লিবিয়ার সমালোচনা করা হয়েছে। গত মাসে দু’দেশের অবহেলার জন‍্য দুর্ঘটনায় ১৩০ জন অভিবাসীর করুণ মৃত‍্যু হয়েছে বলে জানা যায়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.