ইতালির মানচিত্র
ইতালি দক্ষিণ ইউরোপের একটি ভূমধ্যসাগরীয় দেশ। এর পূর্ব উপকূলে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর, পশ্চিমে টাইরেনিয়ান সাগর কিংবা বলা হয় ভূমধ্যসাগর উপকূল, দক্ষিণে রয়েছে আয়নিয়ান সাগর এবং এর উত্তরে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও স্লোভেনিয়ার দেশগুলো দ্বারা বেষ্টিত।

ইতালীয় মূল ভূ-খণ্ডটি মুলত একটি দীর্ঘ উপদ্বীপ, যার আকৃতি একটি লম্বা বুটের মতো। একারণে দেশটিকে প্রায়শই “বুট” হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ইতালির দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পু’লিয়া অঞ্চলকে “বুটের হিল” ও এর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কালাব্রিয়া অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করা হয় “বুটের অঙ্গুলি” হিসেবে।

ইতালির ইতিহাস ও ঐতিহ‍্য:

ইতালি নামক এই উপদ্বীপের রয়েছে কয়েক হাজার বছরের উল্লেখযোগ‍্য ইতিহাস ও ঐতিহ‍্য। রোমানোত্তর ইতিহাসে দেশটি অনেক রাজ্য এবং নগরে বিভক্ত ছিলো। যেমন: ১) সার্দেনিয়া রাজ্য, ২) সিসিলিয়া রাজ্য, ৩) ডাচি অব মিলান কিন্তু ১৮৬১ সালে একীভূত হয় এবং ইতিহাসের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ১৯ শতকের শেষের দিকে, ১ম বিশ্বযুদ্ধ হতে ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে দেশটি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

সার্দেনিয়ার সমুদ্র সৈকত
ইতালির জলবায়ূ:

দেশটির অভ্যন্তরীণ অঞ্চল সাধারণত শীতল এবং ভেজা প্রকৃতির, তবে গ্রীষ্মকালে গরম থাকে বেশ। দক্ষিণাঞ্চলে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। উত্তরাঞ্চলে শীতকালে প্রচুর পরিমাণে তুষারপাত হয়।

ইতালির অঞ্চল ও আয়তন:

দেশটি আয়তনে ১১৬,৬৫০ বর্গমাইল (৩০১,৩৪০ বর্গকিলোমিটার)। সার্দিনিয়া এবং সিসিলি দ্বীপপুঞ্জ সহ দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের তুলনায় কিছুটা বড়। ভ্যাটিকান সিটি এবং সান মেরিনোর ক্ষুদ্র সার্বভৌম দেশগুলি ইতালির অন্তর্ভূক্ত।

ভূমধ্যসাগরীয় সিসিলি এবং সার্দিনিয়ার দ্বীপপুঞ্জসহ ইতালিকে মোট ২০টি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে, প্রত্যেকটি অঞ্চলই পৃথক। প্রতিটি অঞ্চলের মধ‍্যে নিজস্ব অনন্য সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও রান্না-বান্নার ঐতিহ‍্য রয়েছে। ফলে দেশটির দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে প্রচুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

সিসিলিয়া দীপপুঞ্জ
ইতালির জনসংখ‍্যা:

দেশটিতে ইতালীয় বংশোদ্ভূত জন্মের হার কম, অভিবাসীদের বসবাসের কারণে জনসংখ্যা বাড়ছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২০০ জন। ২০১৮ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যা ৬,০৩,৫৯,৫৪৬।

ইতালির ভাষা:

দেশটির সরকারী ভাষা শুদ্ধ ইতালিয়ান হলেও, এর মধ‍্যে অনেক আঞ্চলিক উপভাষা রয়েছে, যা এখনও কথ্য।

ইতালির বৃহত্তম শহর:

মধ্য ইতালির তোস্কানো অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে সর্বাধিক পরিচিত। ইতালির বৃহত্তম শহর হচ্ছে আধুনিক ইতালির রাজধানী শহর রোম, যার জনসংখ্যা ৪২.২ মিলিয়ন। রোম ইতালির শীর্ষস্থানীয় শহরগুলোর মধ‍্যে অন‍্যতম।

রোমের একটি বিখ‍্যাত সেতু
ইতালির পর্বতশ্রেণী ও আগ্নেয়গিরি:

ইতালিতে দু’টি বড় পর্বতশ্রেণী রয়েছে, আল্পস এবং অ্যাপেন্নিনো বা অ্যাপেনিনাইনস। দেশটির প্রায় ৪০% ভূমিই পাহাড়ী।

নেপলস (নাপোলি) এর নিকটবর্তী দক্ষিণ ইতালির মাউন্ট ভেসুভিয়াস ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এই ভেসুভিয়াসই ছিল রোমানের বিখ্যাত শহর পম্পেইয়ে, যাঁর ধ্বংসাবশেষ পরিণত হয়েছিল একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে। সিসিলি দ্বীপে, মাউন্ট এতনায় বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি।

এতনার আগ্নেয়গিরি
ইতালির নদী ও হ্রদ:

দেশের কয়েকটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্রের মধ‍্যে রয়েছে ইতালির নদীগুলো। পো নদীটি উত্তরের আল্পস থেকে শুরু হয়ে তুরিন শহর থেকে পূর্ব উপকূল এবং অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে প্রবাহিত হয়ে পো উপত্যকা দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। নদীটির শেষপ্রান্তে, পো ডেল্টা দেখার মতো একটি দর্ষণীয় স্থান।

আরনো নদী উত্তর-মধ্য অ্যাপেনিনস থেকে পিসা এবং ফ্লোরেন্স এর শহর ঘেষে প্রবাহিত হচ্ছে।

টাইবার নদী অ্যাপেনিনস থেকে প্রবাহিত হয়ে রোম শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টাইরেনিয়ান সাগরে গিয়ে মিশেছে।

ইতালির উত্তরাঞ্চলে অনেকগুলো হ্রদ রয়েছে। ১৫৮ কিলোমিটার বা প্রায় ১০০ মাইল লেকের চারপাশে দূরত্ব সহ গার্ডা হ্রদ হচ্ছে একটি বৃহত্তম হ্রদ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *