সিআরবি
“এ যেন হাসপাতল তৈরি নয়,
বন্দরনগরী কে বিষাক্ত বিষগ্যাসে ভরিয়ে তুলার উদ্যোগ”

বিশুদ্ধ বাতাস, সবুজ বৃক্ষের উপস্থিতিকে বলা যায় পরিবেশের হৃদপিণ্ড। আধুনিকায়নের এই যুগে বিশুদ্ধ বাতাস শহরাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে। চট্টগ্রাম সিআরবি বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্ডারে থাকা কিছু জায়গা। যা শত শত বছর ধরে বিশাল আকৃতির বৃক্ষের সগৌরব উপস্থিতি,  আর সবুজে সবুজে ছাওয়া ডালাপালা ছড়িয়ে প্রখর রোদেও ছায়া যুক্ত একটি বিশাল মনোরম স্থানের নাম।


সম্প্রতি এসমস্ত সবুজ শান্তি বৃক্ষপাতায় বেষ্টিত চট্টমানচিত্র, বেসরকারী হসপিটাল তৈরি করার নামে
ইট পাথরের দালানে ভর্তি করে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।

মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় নিয়ামক নিঃশ্বাস। বিজ্ঞানের ভাষায় অক্সিজেন, যা বাতাসে শতকরা ২০.৭১% থাকা জরুরী। বাতাসে অক্সিজেন কমতে শুরু করলে বেড়ে যেতে শুরু করে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস।

 সালফার ও সিসাযুক্ত পেট্রল এর বহুল ব্যবহার,
জ্বালানি তেলে ভেজাল ও বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন চালিত গাড়ির ধোঁয়া, মহামারীর মতো বৃক্ষ নিধনের ফলে প্রতিনিয়ত বাতাসে বেড়ে যাচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড, অ্যালডিহাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড সহ সিসার নিঃসরণ বেড়ে বাতাসকে দূষিত বিষে পরিণত করে চলেছে।


মারাত্মক এই বায়ু দূষণের কারণে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে হাঁপানি (অ্যাজমা), সিওপিডি (ক্রনিক অবসট্রাক্টিভ পালমোনারি) সহ ফুসফুসের ক্যান্সারসহ ক্ষতিকর  সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমান শহরাঞ্চল গুলোতে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষাক্ত এই বিষ গ্যাস। আমরা প্রতিনিয়ত এই বিষ ফুসফুসে বহন করে নানাবিধ রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছি।

চট্টলাবাসীর প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ এই
‘সিআরবি’। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা বিশাল কালের সাক্ষী বহন করা বৃক্ষরাজির দাপুটে হাওয়াই এখন হয়ে ওঠেছে  একমাত্র শ্বাসক্রিয়া গ্রহণের জায়গা। বেসরকারী হসপিটালের নামে চট্টগ্রামের  ফুসফুস খ্যাত এই অংশটি কেটে ফেলা মানে, বন্দরনগরী কে বিষাক্ত বিষগ্যাসে ভরিয়ে তুলা বৈকি আর কিছুই না।


দূষণ ও যান্ত্রিকতার এই নগরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অনড় শত শত বছরের ঐতিহ্য মন্ডিত বিরাট বিরাট বৃক্ষরাজি বেষ্টিত সিআরবির সবুজতা নষ্ট করে হসপিটাল নির্মাণের উদ্যোগ পরিবেশের জন্য সর্বোপরি মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ।

লামিয়া ফেরদৌসী
শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *