আগামী প্রজন্ম ধ্বংসমুখী
“অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা”- কথাটি আমাদের সকলেরই জানা। বর্তমান সময়ে এই কথাটি সবচেয়ে প্রযোজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে।

আমার ধারণামতে এই করোনাকালীন সময়ে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ অবস্থা সম্পর্কে দেশের প্রত্যেকটি জনগনই অবগত আছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার এই দুর্দশার কারণে ছাত্র-ছাত্রীর থেকে শিক্ষার দূরত্বটা অনেক বেড়ে গেছে। দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার এই অবস্থা চলতে থাকলে অভিভাবকদের পক্ষে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ামুখী করে তোলাটা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়াঁবে।

দিন দিন তাদের মনোযোগ যেন পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর তারা যে জিনিসের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে তা হলো মোবাইলফোন, কম্পিউটারের মতন কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইসে।
সেইসবে ফেসবুক, ভিডিও গেমস, টিকটক,লাইক এছাড়াও বিভিন্ন ভিডিও অ্যাপসের মাধ্যমে তারা পৌঁছে যাচ্ছে উশৃংখলতার চরম শীর্ষে। সুন্দরী তরুণীরা ফাঁদে পড়ছে দুষ্কৃতকারীদের। ধ্বংস হচ্ছে হাজারো জীবন।

টিকটক-লাইকি নিষিদ্ধের দাবি করেছে র‌্যাব

ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়েরা পর্যন্ত টিকটক, ইউটিউব ভিডিও ও অন্যান্য ভিডিও গেমসের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে তারা সব কিছু ভুলে এসব নিয়েই পড়ে থাকছে। আর ফেসবুক এমন একটি সামাজিক মাধ্যম যার ভালো মন্দ দুটি দিকই বেশি। কিন্তু আজকালের কিছু কিছু অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের কাছে খারাপটাই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে আমার মনে হয়।

তার কারণ, কিছুদিন যাবৎ আমি ফেসবুকের মাধ্যমেই কয়েকজন প্রসূতি ও নারী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সচেতনতামূলক সাক্ষাৎকার দেখেছি। সেই ডাক্তারদের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ১৪-১৮ বয়সী অবিবাহিত মেয়েদের নিয়ে কিছু অপ্রীতিকর কথা। তারা সেইসব অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের এমন সব রোগ নিয়ে কথা বলছিল যা সৃষ্টির কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ইমারজেন্সি জন্ম বিরতিকরণ পিল সেবন করা।

এই অল্প বয়সে তারা সেক্স বিষয়টার সাথে কতটা জড়িয়ে গেছে যে তারা নিজেদের শারীরিক অবস্থায় কথাও ভুলে যায়। তাদের মাইন্ড কি পরিমান নোংরা হয়েছে আসলে সেটা কল্পনারও অতীত!
ইন্টারনেটে প্রকাশিত বিভিন্ন সেক্সচুয়াল বা অপ্রীতিকর ছবি ও ভিডিও এসব নোংরামির মূল কারণ বলেই আমি মনে করি। ইন্টারনেটের জগতে ডুবে থাকা ছেলেমেয়েরা এসবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন অসভ্যতার দিকে বেশি পরিমাণে ঝুঁকে পড়ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় এই অবনতির কারণে বিভিন্ন রকমের ভয়ংকর অশ্লীলতার চিত্র আরো বাড়বে দিন দিন সেটা নিশ্চিত।

ইতালি: অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের এক চতুর্থাংশই বাংলাদেশি

তাই সময় থাকতে চোখ খুলুন। শুধুমাত্র ছেলেমেয়েদের শিক্ষা নয় সুশিক্ষা নিয়ে ভাবুন।
এসব বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রতিটি অভিভাবক এমনকি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সচেতন হওয়া জরুরি। আরো বেশি সজাগ হতে হবে আগামী প্রজন্মের প্রতি। কারণ আগামী প্রজন্মের হাতেই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। আর তারাই যদি থাকে ধ্বংসের মুখে তাহলে এই রাষ্ট্রের পতন তো অবধারিত।

চারুলতা (আনারকলি)
কবি, লেখিকা
বাংলাদেশ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *