দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় স্ত্রী নাজমা আর নবজাতকের একসঙ্গে মৃত্যু হলে রায়হানের সংসারে অন্ধকার নেমে আসে। চাকুরি করে বৃদ্ধা মা আর একমাত্র মেয়ে মালাকে দেখাশোনা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। ছুটি নিয়ে কদিন চালানো যায়।মা আর পাড়া পড়শির অনুরোধে অনিচ্ছা সত্বেও রায়হান বাধ্য হয় দ্বিতীয় বিয়ে করতে।

রায়হানের সামনে ভালো দেখালেও সতীনের মেয়ে মালাকে কমলা সহ্য করতে পারতো না। কমলার ঘরে পিঠাপিঠি দুইটি সন্তান হয়। এদের সবসময় কোলে নেয়া,সংসারের খুঁটিনাটি সব কাজ মালাকে দিয়ে করাতো। মেয়েটা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারতো না।রায়হানের মা বৃদ্ধা, মালার কষ্ট সহিতে না পারলেও, মুখে প্রকাশ করার ক্ষমতা তার নেই। তিনি এখন সংসারে বোঝা।

গ্রামের স্কুল থেকে কোনরকম এস এস সি পাশ করার পর মালার আর পড়ালেখা করা হয়নি। স্ত্রী মেজাজ গরম করে বললেন, এই মেয়ের পিছনে সব টাকা খরচ করলে,বাকী দুইটার জন্য কি করবে?তাছাড়া মেয়েদের এত লেখাপড়ার দরকার কি?মালা বাবাকে কিছু না বললেও, রায়হান মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে, সৎ মায়ের সংসারে তার মেয়ে কষ্টে আছে। মাঝে মাঝে মেয়ের হয়ে,কথা বলতে যেয়ে রায়হান দেখেছে,তাতে সংসারে অশান্তি বাড়ে। একদিকে অসুস্হ মা,অন্যদিকে মেয়ে মালা। রায়হান ভেবে পায়না কি করবে?

দেখতে দেখতে মালার বয়স কুড়িতে পড়লো।মেয়েকে ভালো একটা ঘরে বিয়ে দিতে পারলে, রায়হান শান্তি পাবে।ঘটকের কাছে পাত্রের খোঁজ চাইলে,ঘটক বললো পাশের গ্রামের বিপত্নীক চৌধুরী সাহেবের অটেল ধন সম্পদ। আগের স্ত্রীর দুইটা সন্তান আছে। প্রস্তাবটি স্ত্রী কমলার কানে এলে বললো,সমস্যা কি সয় সম্পদ,দাসী-বাদীর অভাব নাই।আমাদের মেয়ে সুখে থাকবে। রায়হানের চোখ বেয়ে জল নেমে এলো।মা মরা মেয়ের প্রতি এ কেমন পরিহাস!

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *